টেসলা ও ফোর্ডের মধ্যকার চুক্তি ঘোষণার পর পরই বেড়েছে শেয়ারদর। ফোর্ড মোটর কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ ও টেসলার বেড়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। চুক্তি অনুসারে, উত্তর আমেরিকার চার্জিং স্টেশনে চার্জের অধিকার লাভ করবে ফোর্ডের বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি। খবর রয়টার্স।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি চার্জের জন্য টেসলার সুপারচার্জারস আদর্শ উদাহরণ স্থাপন করেছে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে। সেদিকে ইঙ্গিত করে ফোর্ডের প্রধান নির্বাহী জিম ফারলে দাবি করেন, অ্যাডাপ্টার ও সফটওয়্যার মিলিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছে টেসলা। আমাদের হাতে এখন এটা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। চলমান মুক্তবাজারের মৌসুমে সুপারচার্জারস ভালো করতে যাচ্ছে। এদিকে ফোর্ড ও টেসলার চুক্তির প্রশংসা করেছেন মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী পিট বাটিগিগ। তিনি জানান, ‌বাইডেন প্রশাসন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির চার্জার নিয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। টেসলা অবিশ্বাস্য নেটওয়ার্ক তৈরির সফলতার প্রশংসার দাবিদার। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে চার্জিং স্টেশন। জেনারেল মোটরস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সামনে এখন দুটি সুযোগ। তারা টেসলার স্থাপিত চার্জিং স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে অথবা কম্বাইন্ড চার্জিং সিস্টেমের (সিসিএস) সঙ্গে। এ পরিস্থিতিতে জেনারেল মোটরস জানায়, বিদ্যুচ্চালিত গাড়িকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত চার্জিং নেটওয়ার্কই সমাধান। এটা অন্য অটো নির্মাতাদের উৎসাহিত করবে। সম্ভব হবে সিসিএসের আওতায় সব বিদ্যুচ্চালিত গাড়িকে একত্র করা।

আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটে বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে দিনশেষে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাটারি ইলেকট্রিক ভেহিকলের (বিইভি) ব্যবহার বাড়বে। এ বৃদ্ধির অনিবার্য পরিণাম হিসেবে বাড়বে টেসলার বিক্রি। ২০১২ সাল থেকে টেসলা সুপারচার্জারস নামে নিজস্ব চার্জার তৈরি করছে, যা অল্প সময়ে চার্জ দিতে সক্ষম। মাত্র ১৫ মিনিটের চার্জে ৩২২ মাইল অতিক্রম করতে পারে। ফোর্ডের প্রধান নির্বাহী ফারলের দাবি অনুযায়ী, এতদিন ফোর্ডের চার্জার সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ হাজার। টেসলার সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর সংখ্যাটি দ্বিগুণে পরিণত হবে। সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। তার অংশ হিসেবেই বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি ব্যবহার ও চার্জিং স্টেশনের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত গাড়ির ৫০ শতাংশই বিদ্যুচ্চালিত গাড়িতে পরিণত করতে চায় সরকার।

 কিন্তু পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশনের অভাবেই ইভি বিক্রির গতি অনেকটাই মন্থর, যা জলবায়ু পরিবর্তনকেও প্রভাবিত করেছে। ফোর্ড-টেসলার চুক্তি সেখানে অনেকটাই স্বস্তি নিয়ে এসেছে।