দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ খানিকটা বেড়েছে। জুলাইয়ের তুলনায় সদ্যসমাপ্ত আগস্টে বন্দর থেকে ১২ কোটি ১৩ লাখ টাকা বাড়তি রাজস্ব আহরণ হয়েছে। বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে থাকা সমস্যাগুলো নিরসন করা হলে বন্দর থেকে বাড়তি রাজস্ব আহরণ সম্ভব বলে মনে করেন আমদানিকারকরা।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এখনো হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়নি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বন্দর থেকে ৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণ হয়েছে। আগস্টে কিছুটা বেড়ে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৪৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা। 

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সহসভাপতি শাহিনুর রেজা বলেন, হিলি স্থলবন্দরে বিগত অর্থবছরগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার বেশি রাজস্ব আহরণ সম্ভব হয়েছে। তবে গত কয়েক অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। এর একটি মাত্র কারণ পণ্য আমদানিতে থাকা বেশকিছু বৈষম্য। যেমন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে মোটরসাইকেল পার্টস আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কায়ন করা হয় পিস হিসেবে যদিও বেনাপোল বন্দর দিয়ে একই পণ্য আমদানি করলে সেখানে শুল্কায়ন করা হয় কেজি হিসেবে। এছাড়া বেনাপোল বন্দরে যে মূল্যে শুল্কায়ন করে আমদানীকৃত পণ্য ছাড়করণ দেয়া হয় সেই একই পণ্য হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করলে বাড়তি মূল্যে শুল্কায়ন করে ছাড়করণ করা হয়। এছাড়া হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানির ক্ষেত্রে ট্রাকের চাকা অনুযায়ী শুল্কায়নের একটা অলিখিত প্রথা চালু রয়েছে। সেই সঙ্গে শুল্কায়ন মূল্য বৃদ্ধিসহ নানা জটিলতার কারণে বন্দর দিয়ে অধিক শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি দিন দিন কমে যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরের মতো হিলি স্থলবন্দর একই নিয়মনীতির আওতায় পরিচালনা করা হলেও একই মূল্যে শুল্কায়ন করা হলে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ যেমন বাড়বে, তেমনি রাজস্ব আহরণ বাড়বে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার বায়জিদ হোসেন বলেন, ‘স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণের যে ধারা রয়েছে, সেই হিসেবে অন্তত ২৬ ভাগ বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিতে পারে এনবিআর। তবে বন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্যের পাশাপাশি যেসব পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আছে যেমন জিরা, পাথর ইত্যাদির আমদানি অব্যাহত থাকলে রাজস্ব আহরণ বাড়তে পারে। তবে গত মাসে রাজস্ব আহরণ বাড়ার মূল কারণ জিরা আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কায়ন মূল্য দ্বিগুণ করা। এনবিআর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দিলে সে অনুযায়ী চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।