সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্ববাজারে গমের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। সরবরাহ সংকটের কারণে বাজার ক্রমেই লাগাম ছাড়া হচ্ছে। এর মধ্যেই গমের রফতানি শুল্ক বাড়াতে যাচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকারক রাশিয়া। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম ও রয়টার্স।

রাশিয়ার কৃষিমন্ত্রী দিমিত্রি পেট্রোশেভ সম্প্রতি এক সরকারি বৈঠকে জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম যদি বড় পরিসরে বেড়ে যায় তবেই গমের রফতানি শুল্ক বাড়ানো হবে।

রাশিয়ায় খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি পাঁচ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। দেশটির খাদ্যশস্য রফতানিতে এরই মধ্যে গুনতে হচ্ছে ফরমুলাভিত্তিক শুল্ক। এটি চলতি বছরের জুনে আরোপ করা হয়।

পেট্রোশেভ বলেন, বিশ্ববাজারে লক্ষণীয় হারে বেড়েছে দাম। এমন পরিস্থিতিতে প্রতি টন গম ৪০০ ডলার বা তার বেশি দামে রফতানি করতে গেলে বিদ্যমান শুল্কের চেয়ে বেশি শুল্ক দিতে হবে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, স্থানীয় বাজারে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে রাশিয়ার। এ কারণে আগামী বছরের প্রথমার্ধের জন্য গমসহ খাদ্যশস্য রফতানিতে কোটা নির্ধারণ করবে রাশিয়া।

রাশিয়ান ইউনিয়ন অব গ্রেইন এক্সপোর্টার্সের প্রধান এডওয়ার্ড জারনিন রয়টার্সকে জানান, তার প্রত্যাশা আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কোটা নির্ধারণ করা হবে। এটি জুনের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এদিকে রুশ সরকার ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমের জন্য খাদ্যশস্য উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়ে এনেছে। উৎপাদনের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৩০ লাখ টন। এটি আগের পূর্বাভাস ১২ কোটি ৭০ লাখ টনের তুলনায় কম। সরকার জানায়, ভয়াবহ শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দেশটির গম উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বছর দেশটিতে ৮ কোটি ৫০ লাখ টন গম উৎপাদন হলেও এ বছর তা কমে ৭ কোটি ৫০ লাখ টনে নেমে আসতে পারে।

এদিকে মার্কিন কৃষি বিভাগের (্ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী গম উৎপাদন আরো কমবে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭ কোটি ২৫ লাখ টনে। ইউএসডিএ মনে করছে, গম রফতানিও ৩ কোটি ৮৫ লাখ টন থেকে কমে ৩ কোটি ৫০ লাখ টনে নামবে।

মার্কিন সংস্থাটি জানায়, রাশিয়া গম রফতানিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ। কিন্তু ৩ কোটি ৫৫ লাখ টন গম রফতানির মাধ্যমে চলতি বছর দেশটিকে ছাড়িয়ে যাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে রাশিয়ার গম রফতানি চাপের মুখে রয়েছে। রফতানি মূল্যের তুলনায় স্থানীয় বাজারে কৃষিপণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী। ফলে রফতানিযোগ্য গমের প্রাপ্যতা নিশ্চিতে ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হতে পারে।