চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মিষ্টিকুমড়ার মাসালা স্টারবাকসের বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদী মার্কিন কফি হাউজ চেইনটি। তবে গত ২ অক্টোবর শেষ হওয়া তিন মাসকে প্রান্তিক ধরে প্রতিষ্ঠানটি।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় ৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৮৪১ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্রেতারা উচ্চমূল্যের কারণে ব্যয়ের ক্ষেত্রে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ ধরনের পানীয় ও স্ন্যাকসে তাদের অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। সংস্থাটির বিক্রীত বেভারেজের ৬০ শতাংশই এখন ফ্লেভার শট, ফোম ও অন্যান্য উপাদান দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি।

স্টারবাকসের ভারপ্রাপ্ত সিইও হাওয়ার্ড শুলজ সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের সম্মেলনে বলেন, আমরা ব্যয় সাশ্রয়ের নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছি। এগুলো স্টারবাকসের গ্রাহক বাড়াতে সহায়তা করছে। তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পণ্যের দাম ৬ শতাংশের কাছাকাছি বাড়িয়েছে।

সিয়াটলভিত্তিক কফি জায়ান্টটি জানিয়েছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে অন্তত এক বছরের পুরনো দোকানগুলোয় বিক্রি ৭ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকরা ৪ দশমিক ২ শতাংশ বিক্রি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল।

কভিডজনিত বিধিনিষেধের কারণে চীনে সংস্থাটির বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে উত্তর আমেরিকায় শক্তিশালী বিক্রি সেই ক্ষতিকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। উত্তর আমেরিকায় বিক্রি ১১ শতাংশ বেড়েছে। যদিও স্টারবাকসের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার চীনে বিক্রি ১৬ শতাংশ কমে গিয়েছে। তবে সংস্থাটি বলেছে, এ সময়ে দেশটিতে বিক্রি দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো ছিল। সে সময় চীনে বিক্রি ৪৪ শতাংশ কমে গিয়েছিল। হাওয়ার্ড শুলজ বলেন, সর্বশেষ প্রান্তিকে চীনে আমরা বিক্রি পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক লক্ষণ দেখে উৎসাহিত। আমরা আশা করছি, ২০২৩ অর্থবছরে বিশ্বজুড়ে বিক্রি ৭ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে বাড়বে। যেখানে গত অর্থবছরে এ বিক্রি বাড়ার হার ছিল ৮ শতাংশ।

স্টারবাকস জানিয়েছে, সর্বশেষ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানের নিট মুনাফা ৫০ শতাংশ কমে ৮৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দোকানগুলো নতুন করে সাজানো এবং কর্মীদের বেতনে বড় অঙ্কের ব্যয় করায় মুনাফা কমেছে সংস্থাটির।