মেক্সিকো উপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ডেল্টার প্রাদুর্ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঞ্চল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে সেখানকার এলএনজি প্লান্টটি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ক্যামেরন এলএনজি নামে একটি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে চেনিয়ার এনার্জি ইনকরপোরেট নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান সেখানে কার্যক্রম বন্ধ না করলেও সীমিত করে আনার ঘোষণা দিয়েছে। খবর রয়টার্স।

ক্যামেরন এলএনজি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি লুইজিয়ানার এলএনজি ফ্যাসিলিটিটি নিয়ন্ত্রিত উপায়ে সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য ক্যামেরন এলএনজির একটি দলকে নিরাপদে পৃথক করে রাখা হবে, যাতে করে ঘূর্ণিঝড় ডেল্টা অতিক্রম করামাত্রই ওই ফ্যাসিলিটির কার্যক্রম পুনরায় চালু করা যায়।

ক্যামেরন এলএনজি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিলেও লুইজিয়ানার সাবিন পাসে অবস্থিত নিজস্ব এলএনজি প্লান্টটি সীমিত আকারে চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চেনিয়ার এনার্জি। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চরম দুর্যোগের মধ্যে নিজস্ব জনবল ও সম্পদ রক্ষার জন্য এরই মধ্যে একটি প্রতিকূল আবহাওয়া পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে চেনিয়ার এনার্জি। সাবিন পাসের প্লান্টটিতে সীমিত আকারে ও নিরাপদে জনবল মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপদে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে ওই অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সর্বশেষ বড় ঘূর্ণিঝড়টি ছিল হ্যারিকেন লরা। ক্যামেরন ও সাবিন পাস এলএনজি প্ল্যান্টের খুব কাছ দিয়েই বয়ে গিয়েছিল ঘূর্ণিঝড়টি। ওই সময়ে উভয় কোম্পানিই তাদের প্ল্যান্ট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, ঘূর্ণিঝড় লরা ও ডেল্টার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি রফতানি কমে যাওয়ার কারণে ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে গ্যাসের মূল্য বেড়েছে। বর্তমানে পণ্যটির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে চলতি বছরের সর্বোচ্চে।

ঘূর্ণিঝড় লরার কারণে গত ২৫ আগস্ট সাবিন পাসের এলএনজি প্ল্যান্টটি বন্ধ করতে বাধ্য হয় চেনিয়ার এনার্জি। এরপর প্রতিষ্ঠানটির পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয় ৩ সেপ্টেম্বর। অন্যদিকে ক্যামেরন এলএনজি ২৬ আগস্ট প্লান্টের কার্যক্রম বন্ধ করলেও ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে চালু করতে পারেনি।