নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরনো এলসির বিপরীতে গম রফতানি শেষ করতে না পারায় সময়সীমা বাড়িয়েছে ভারত সরকার। এতে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পুরনো এলসির গম আমদানি আবার শুরু হবে বলে প্রত্যাশা বন্দরের ব্যবসায়ীদের। এতে আমদানি বন্ধের কারণে দেশের বাজারে গমের দামের যে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সেটি কমবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক রবিউল ইসলাম ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় বাজারে গমের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১৩ মে গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত। এতে ১৪ মে থেকে বন্দর দিয়ে গম আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। যদিও আগের টেন্ডারকৃত গম রফতানি অব্যাহত রাখায় সেদিন বিকালে আবার গম আমদানি শুরু হয়। কয়েক দফা বন্ধ ও চালু করে পুরনো টেন্ডারের সব গম রফতানি শেষ করে ভারত। ফলে আবার বন্দর দিয়ে গম আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে আবারো ১৩ মে এর আগ পর্যন্ত হওয়া এলসির গম রফতানির অনুমতি দেয় ভারত। এতে বন্দর দিয়ে গমের আমদানি অব্যাহত ছিল। সড়কপথে ট্রাকে করে পুরনো এলসির গম রফতানি শেষ হয়ে গেলে রেলপথে ওয়াগনের মাধ্যমে আমদানির জন্য খোলা পুরনো এলসিগুলোর গম সড়কপথে রফতানির অনুমতি দেয় ভারত। সেটি রফতানির সময়সীমা ছিল গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরই মধ্যেই সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় বন্দর দিয়ে গম আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এর মধ্যেও পুরনো এলসির গম রফতানি শেষ করতে না পারায় ভারতীয় রফতানিকারকরা গম রফতানির মেয়াদ বাড়াতে সেদেশের হাইকোর্টে একটি মামলা করেন। ১৩ অক্টোবর সে মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। তাতে সময় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কবে থেকে বন্দর দিয়ে গম রফতানি শুরু করবে ভারত, সে বিষয়ে এখনো জানা যায়নি। আমরা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। দ্রুতই আমদানি শুরু হবে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে ভারত থেকে সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২৮টি ট্রাকে ১ হাজার ৩৫ টন গম আমদানি হয়েছিল। এর পর দুর্গা পূজা উপলক্ষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত টানা আটদিন আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। পূজার ছুটি শেষে ৮ অক্টোবর বন্দর দিয়ে দুই দেশের মাঝে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো গম আমদানি হয়নি।









