কয়েক বছর টানা মন্দায় রয়েছে চিনির আন্তর্জাতিক বাজার। উদ্বৃত্ত সরবরাহের সঙ্গে বৈশ্বিক চাহিদা মন্দায় পণ্যটির বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা বাজায় রয়েছে। অব্যাহত দাম কমায় পণ্যটি উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে শীর্ষ উৎপাদনকারীরা। একই অবস্থা বজায় ছিল পণ্যটির দ্বিতীয় শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলেও। তবে সম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে রফতানিও। এ ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমের প্রথম মাস এপ্রিলে ব্রাজিল থেকে পণ্যটির রফতানি বেড়ে গত তিন বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছড়িয়েছে। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটস।
ব্রাজিলের শিপিং এজেন্সি উইলিয়ামসের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ব্রাজিল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১২ লাখ ৮৩ হাজার টন চিনি রফতানি হয়েছে। ২০১৭ সালের এপ্রিলের পর এটাই দেশটি থেকে পণ্যটির সর্বোচ্চ রফতানি।
এর আগের দুই মৌসুমে ব্রাজিল খুব একটা চিনি উৎপাদন করেনি। অধিক মুনাফার আশায় দেশটি আখ থেকে চিনির পরিবর্তে ইথানল উৎপাদনে জোরারোপ করেছিল। তবে কয়েক বছর উৎপাদনে টানা কমতির দিকে থাকায় ২০১৫-১৬ মৌসুমের (অক্টোবার-সেপ্টেম্বর) পর প্রথমবারের মতো চলতি মৌসুমে বৈশ্বিক চাহিদা অনুপাতে পণ্যটির ঘাটতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে খাতসংশ্লিষ্টরা। সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বাড়তে শুরু করেছে পণ্যটির দাম। এ পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের উৎপাদকেরা চিনির উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা বাড়তির দিকে থাকায় দেশটি থেকে রফতানি চাঙ্গা হয়ে উঠছে।
উইলিয়ামস জানিয়েছে, মৌসুমের বাকি দিনগুলোতেও ব্রাজিলের চিনি রফতানি ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে। এ ধারাবাহিকতায় জুনের শেষ নাগাদ দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি বেড়ে ২৬ লাখ টনের রেকর্ড ছুঁতে পারে, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় যা তিন গুণের বেশি।
এদিকে চলতি মৌসুমে বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশের মন্দা উৎপাদন চিনি রফতানিতে ব্রাজিলকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুমের (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ ভারত ও অন্যতম শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ থাইল্যান্ডের সম্মিলিত চিনি উৎপাদন ১ কোটি ৩১ লাখ টন কমে যেতে পারে। অন্যদিকে ব্রাজিলে এবার পণ্যটির উৎপাদন আগের মৌসুমের তুলনায় ৮২ লাখ টন বাড়তে পারে।










