চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নিট লোকসানের মুখোমুখি হয়েছে আলিবাবা গ্রুপ। আয়ের ক্ষেত্রেও প্রত্যাশার তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে চীনা ই-কমার্স জায়ান্টটি। ধীর অর্থনীতি এবং ভোক্তা মনোভাবে পতনের কারণে লোকসান গুনেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর এপি।
৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া প্রান্তিকে ২ হাজার ৬০ কোটি ইউয়ান (২৮৭ কোটি ডলার) নিট লোকসানের কথা জানিয়েছে আলিবাবা। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ইকুইটি বিনিয়োগের বাজারমূল্য কমে যাওয়ায় সংস্থাটির লোকসানের পাল্লা ভারী হয়েছে। এ সময়ে সংস্থাটির আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৭২০ কোটি ইউয়ানে (২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার)। কভিডজনিত লকডাউন এবং গণপরীক্ষার মতো ব্যবস্থাগুলো অব্যাহত থাকায় ভোক্তারা ব্যয়ের ক্ষেত্রে লাগাম টেনেছেন।
আলিবাবার চেয়ারম্যান ও সিইও ড্যানিয়েল ঝাং বিনিয়োগকারীদের সম্মেলনে বলেন, আমরা ভোক্তাদের চাহিদা এবং কেনার প্রবণতা কমে যেতে দেখেছি। ইলেকট্রনিকস ও পোশাকের মতো পণ্যের চাহিদায় বড় পতন হয়েছে।
এ অবস্থায় নিজেদের শেয়ার পুনঃক্রয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে আলিবাবা। সংস্থাটি বলেছে, শেয়ার পুনঃক্রয় কার্যক্রম ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রসারিত করা হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে বিদ্যমান ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বাইরেও অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের শেয়ার কেনা হবে। এ পদক্ষেপকে ড্যানিয়েল ঝাং শেয়ারহোল্ডারদের রিটার্ন বাড়ানোর জন্য বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের মার্কিন-তালিকাভুক্ত শেয়ার কিনেছে প্রতিষ্ঠানটি। চীনের হ্যাংজুভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটার উৎসব সিঙ্গেলস ডে বা ডাবল ১১ সমাপ্তির কিছুদিন পরই তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করল। এটি বিক্রির দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন উৎপাদন হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৯ সালে এ উৎসবের পথপ্রদর্শক হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো আলিবাবা কেনাকাটা উৎসবের চূড়ান্ত বিক্রির ফলাফল প্রকাশ করেনি। এটি প্রত্যাশার চেয়ে কম বিক্রির ইঙ্গিত দেয়। আবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান জেডি ডটকমও বিক্রির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিউইয়র্ক পুঁজিবাজারে আলিবাবার শেয়ারদর প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। ২০২০ সালের শেষ দিকে প্রযুক্তি শিল্পের ওপর চীনা সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর থেকে আলিবাবার যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত শেয়ারের দাম ৭০ শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছে।










