এমনটা মনে করছেন সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব ও ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) প্রধান ডেভিড মিলিব্যান্ড। দ্য গার্ডিয়ান।
ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠকে গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রম থেকে সরে আসা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এমন এক ধাক্কা তৈরি করবে, যার প্রভাব দরিদ্র ও ধনী উভয় ধরনের দেশকেই সমানভাবে ভোগ করতে হবে।’
তিনি যুক্তরাজ্যের কিয়ার স্টারমার সরকারের বৈদেশিক সাহায্যের বাজেটে কাটছাঁটের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ‘বিশ্বের দরিদ্রতম মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল নৈতিকভাবে সঠিক কাজই নয়, বরং এটি ব্রিটেনের জন্যও একটি ভালো বিনিয়োগ।’
সাক্ষাৎকারে মিলিব্যান্ড আরো বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে কেবল বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্যই বাড়াবে না, বরং লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলবে।’ ২০১৬ সালের ইউরোপীয় শরণার্থী সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সংঘাত সবসময় মানুষের অভিবাসনকে ত্বরান্বিত করে।’
বিশ্বজুড়ে যখন যুদ্ধ ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে হুমকি বেড়েই চলেছে, তখন পশ্চিমা সরকারগুলোর সহায়তা কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তকে ‘সবচেয়ে খারাপ সময়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মিলিব্যান্ড।
জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে। এ প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নশীল দেশগুলো।
একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান সংঘাত এ দুইয়ের জ্যাঁতাকলে পিষ্ট বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে বৈদেশিক সহায়তা বাড়ানোই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।










