সিঙ্গাপুর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত অফিস ভবন, শপিং মল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সম্পদের সঙ্গে জড়িত সম্পত্তির লেনদেন কমেছে। এসব খাত থেকে দূরে সরে আসছেন বিনিয়োগকারীরা। এর পেছনে উচ্চ সুদহার ও বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ার মতো কারণকে দায়ী করা হচ্ছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

কমার্শিয়াল রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি জেএলএলের নভেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ কার্যক্রম জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বছরওয়ারি ২২ শতাংশ কমেছে, যা ২০১০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে হিসাব করলে সর্বনিম্ন।

মার্কেট ডাটা প্রভাইডার এমএসসিআই রিয়েল এস্টেট জানায়, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাণিজ্যিক সম্পত্তির লেনদেন ২০২২ সালে তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কমেছে, যা বছরওয়ারি পতনের টানা ষষ্ঠ প্রান্তিকে রয়েছে। এতে এ অঞ্চলে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার সর্বকালের সর্বনিম্ন ৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

এমএসসিআইয়ের এশিয়া রিয়েল অ্যাসেট রিসার্চের প্রধান বেঞ্জামিন চাউ বলেন, ‘‌দীর্ঘ সময়ের উচ্চ সুদহারের কারণে খাতটি দ্রুত পুনরুদ্ধারের কোনো আশা নেই। এ মন্দার মধ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বাকি বিশ্বের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। তবে অঞ্চলটির অনেক মূল সেক্টরে আরো সংশোধনসহ তৃতীয় প্রান্তিকের প্রক্ষেপণ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশাকে একটি ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।’

এমএসসিআই এক কোটি বা তার কিছু বেশি বাণিজ্যিক সম্পত্তির লেনদেন এবং পোর্টফোলিও ট্র্যাক করেছে। যেখানে জেএলএল ৫০ লাখের বেশি লেনদেনের মান পর্যবেক্ষণ করেছে। তবে উভয়ই রিয়েল এস্টেট খাতের লেনদেনে মন্দার কথা উল্লেখ করেছে।

নভেম্বরে সিঙ্গাপুরভিত্তিক রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ মেট্রো ঘোষণা করেছিল, তারা সিঙ্গাপুরের প্রধান শপিং স্ট্রিট অর্চার্ড রোডের পাশে ভিশনক্রেস্ট কমার্শিয়াল নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পত্তির ২০ শতাংশ শেয়ার কিনবে, যাতে ব্যয় হবে ৪ কোটি সিঙ্গাপুরি ডলার (২ কোটি ৯৮ লাখ ডলার)।

সেখানে ১১ তলা কমপ্লেক্সের জন্য পরিকল্পনা করছিল মেট্রো। তবে গ্রুপটির চেয়ারম্যান উইনস্টন চু এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। এ এলাকায় বিনিয়োগকে তিনি একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে চিত্রিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘‌ম্যাক্রো হেডওয়াইন্ডের মধ্যে এটি অপরিহার্য যে স্থিতিশীল খাতে একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও গুণগত মানসম্পন্ন পোর্টফোলিও বজায় রাখে। এ চ্যালেঞ্জিং সময়ে মেট্রো স্থিতিশীলতার জন্য নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।’

মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পত্তি পরিষেবা সংস্থা সিবিআরই গত অক্টোবরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাজারগুলোকে কাভার করে এমন প্রায় ১০০ জন সিনিয়র ব্রোকার ও মূল্যায়নকারীকে নিয়ে এক জরিপ চালায়। সেখানে মাত্র ১২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ২০২২ সালের তুলনায় আগামীতে বিনিয়োগ কার্যক্রমের উন্নতি হবে। যদিও গত এপ্রিলে করা এক সমীক্ষায় ৭৩ শতাংশ মনে করেছিলেন, রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারীরা এ বছর লেনদেনে ফিরে আসবেন।

সিবিআরইর এশিয়া-প্যাসিফিকের গবেষণাপ্রধান হেনরি চিন বলেন, ‘‌২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিনিয়োগ কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের কোনো আশা করা যায় না। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাজারে উজ্জ্বল সম্ভাবনা ছিল।’