ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ভারতে প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৪ হাজার রুপিতে পৌঁছে। মার্চে এসে ফের কমেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম। এতে বিদেশী ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা বাড়বে বলে প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। একই সঙ্গে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরো বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ রফতানির সুযোগ পাবেন বলেও মনে করছেন তারা। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস।

ভারতের হর্টিকালচার প্রডিউস এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিত শাহ বলেছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে পেঁয়াজ রফতানির চাহিদা অনেক বাড়ার প্রত্যাশা আমাদের। চলতি সপ্তাহে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে পাকিস্তানি পেঁয়াজের অর্ডার এসেছে।

দেশটিতে পেঁয়াজের স্বাভাবিক দাম অনেক কমেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কুইন্টালপ্রতি ১ হাজার রুপি কমেছে জমি থেকে সদ্য তোলা পেঁয়াজের দাম। গত ২০ ফেব্রুয়ারি এশিয়ার সবচেয়ে বড় বাজার মহারাষ্ট্রের লাসালগাঁওয়ে পেঁয়াজের দাম ছিল কুইন্টালপ্রতি ৪ হাজার রুপি। আর ১ মার্চ প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজের দাম কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৬৪০ রুপিতে।

ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে অমৌসুমি বৃষ্টিতে পেঁয়াজের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশটিতে এর প্রভাব পড়ে। ফলে সে সময় এর দাম বাড়তে থাকে। তবে এর পর থেকেই ৭৫ শতাংশ মূল্যহ্রাস ঘটে। চলতি মাসে মসলাপণ্যটির দাম কমেছে ৬৫ শতাংশ।

ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শুক্রবার দিল্লিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের খুচরা মূল্য ছিল ৩৫ রুপি। যদিও মুম্বাইতে এর দাম ছিল ৩৭ রুপি। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এর পার্থক্য ছিল আরো বেশি। দিল্লিতে যে পেঁয়াজের দাম ছিল ৪৮ রুপি, মুম্বাইতে তা বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ৬৭ রুপিতে।

এদিকে দাম কমে যাওয়ার সঙ্গে রফতানিতে প্রত্যাশা বেড়েছে ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের। যদিও স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের চাহিদার স্থিরতা বিরাজ করছে। তা সত্ত্বেও এরই মধ্যে আগের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ পেঁয়াজ প্রবেশ করেছে লাসালগাঁওয়ের বাজারে।

লাসালগাঁও এগ্রিকালচারাল প্রডিউস মার্কেটিং কমিটির (এপিএমসি) চেয়ারপারসন সুবর্ণা জগতাপ বলেছেন, পাইকারি বাজারে পণ্যটির দাম কমায় রফতানির পরিমাণ বাড়বে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক লোকসান অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারবেন রফতানিকারকরা।

দেশটির কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ৪ থেকে ৫ মার্চের ব্যবধানে কেবল মহারাষ্ট্রের বাজারে পেঁয়াজের পরিমাণ ৫৬ হাজার ২১২ টন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার ৫০০ টনে। এর আগে ১ থেকে ৩ মার্চে এর পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ৪৯২ টন। পরিসংখ্যানে দেখা যায় চলতি মাসে ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলছে পেঁয়াজ সরবরাহ। বিদেশী ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে রফতানির লক্ষ্যেই বাজারে পেঁয়াজের জোগান বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।