যৌথ উদ্যোগে হাইড্রোজেনচালিত ইঞ্জিন চালু করার পরিকল্পনা করেছে জাপানের চারটি বৃহৎ মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। কিয়োদো এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানি প্রতিষ্ঠান হোন্ডা মোটর, কাওয়াসাকি মোটর, সুজুকি মোটর ও ইয়ামাহা মোটর-এ চার নির্মাতা মিলে আগামী মাসেই এ ধরনের প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নে বিশেষ একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে। সম্প্রতি চার নির্মাতার জোটটি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর কিয়োদো এজেন্সি।
প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তাদের দুই চাকাযুক্ত এবং অন্যান্য গাড়িতে হাইড্রোজেনচালিত ইঞ্জিন চালুর লক্ষ্য নিয়ে যৌথভাবে উদ্যোগটি বাস্তবায়নে কাজ করা হবে। জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেন ব্যবহারের সময় এ ধরনের ইঞ্জিন থেকে শুধু পানি বের হয়। এ ধরনের পরিকল্পনা নতুন প্রজন্মের জন্য জ্বালানির উৎস হিসেবে হাইড্রোজেনের ব্যবহারসংক্রান্ত জাপান সরকারের নীতিও সামঞ্জস্যপূর্ণ। পেট্রলচালিত গাড়ির ওপর দেশটির কঠোর আইন ও বিশ্বব্যাপী বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) চাহিদা ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
জাপানি মোটরসাইকেল নির্মাতারা এর আগে ঐতিহ্যগতভাবে অভ্যন্তরীণ জীবাশ্ম জ্বালানি ইঞ্জিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করত। বর্তমানে তারা একই ইঞ্জিন ব্যবহার করে, সম্পূর্ণ ইভি মডেলগুলোর বিপরীতে একটি বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসেবে ‘হাইড্রোজেন’কে প্রচারের চেষ্টা করছে। ইয়ামাহার প্রেসিডেন্ট ইয়োশিহিরো হিদাকা এক সংবাদ বিবৃতিতে বলেন, ‘হাইড্রোজেন হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের একটি জ্বালানি উৎস। পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ক্ষেত্রে যার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।’
টয়োটা মোটর এরই মধ্যে হাইড্রোজেন ইঞ্জিনযুক্ত গাড়ি তৈরির কাজ করে আসছে। এছাড়া লিকুয়িড হাইড্রোজেন সরবরাহে অত্যন্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এ উদ্যোগে সহযোগিতা করবে। প্রতিষ্ঠানটিও বিশেষ সদস্য হিসেবে চার প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হবে। হাইড্রোজেন স্মল মোবিলিটি অ্যান্ড ইঞ্জিন টেকনোলজি অ্যাসোসিয়েশন নামে গঠিত সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নির্মাতাদেরও বিশ্বব্যাপী হাইড্রোজেনচালিত গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা ও উদ্যোগে যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সংস্থাটি এ ধরনের ইঞ্জিনগুলো মিনি যানবাহন, ছোট নৌকা ও ড্রোনে ইনস্টল করার কথাও ভাবছে।
জোটবদ্ধ চারটি কোম্পানি বলছে, এ ধরনের যান তৈরির প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে বিশ্বব্যাপী হাইড্রোজেনচালিত ইঞ্জিনের মোটরসাইকেল নেই। কেননা গ্যাসোলিনের চেয়ে হাইড্রোজেন বেশি দাহ্য এবং দুই চাকার গাড়ির ইঞ্জিন ও জ্বালানি ট্যাংকের জন্য জায়গা সীমিত।
সংস্থাটি জানিয়েছে, হাইড্রোজেনচালিত ইঞ্জিনের জন্য মৌলিক গবেষণায় সহযোগিতা করা হবে। তবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য পণ্য উন্নয়নের সিদ্ধান্ত প্রতিটি কোম্পানির ওপর নির্ভর করবে।










