দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। এর পরই দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু শুল্ক ছাড়ের আশায় তারা বন্দর থেকে চাল খালাস করছেন না। এর ফলে বন্দরে আটকা পড়ে আছে আট হাজার টন চাল।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও ভারতীয় চালের রফতানি মূল্য বাড়ায় আমদানি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই শুল্ক ছাড়ের আশায় চাল খালাস করছেন না আমদানিকারকরা। ফলে বন্দরের অভ্যন্তরে কিছুদিন ধরে ১৮৮টি ট্রাকে ৭ হাজার ৭০০ টন চাল আটকে আছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ট্রাকচালকরা।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, চালের আমদানি শুল্ক কমানোয় ও আমদানির অনুমতি পাওয়ায় আমরা এলসি খুলেছি এবং আমদানি শুরু করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমদানির অনুমতি দেয়ার খবরে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি ডলারের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এসব কারণে চাল আমদানি করে ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফলে আমদানিকারকরা বন্দর থেকে চাল খালাস করছেন না। আমদানিকারকদের প্রত্যাশা, সরকার আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে নেবে। চালের ওপর আরোপিত ২৫ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহার করলে আমদানিকারকরা যেমন লোকসান থেকে বাঁচবে, তেমনি বন্দর থেকে চাল খালাস করে নেবেন। এতে করে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়বে, কমবে দাম।

আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন, ডলারের বাজারে উত্থান-পতন চলছে। আমরা এক দামে ভারত থেকে পণ্য আমদানি করছি। কিন্তু ব্যাংকে বিল ছাড়তে হচ্ছে বাড়তি দামে।

হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমদানিকারকরা বন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি অব্যাহত রেখেছেন। তবে তারা আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের আশায় চাল খালাস করছেন না। কেউ কেউ চাল খালাস করে নিচ্ছেন, তবে অত্যন্ত স্বল্প পরিমাণে।

হিলি বাজারের চাল ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হলেও সেগুলো বাজারে আসছে না। সব চাল বন্দরের ভেতরে আটকা পড়ে আছে। বন্দর থেকে চালগুলো খালাস হয়ে বাজারে প্রবেশ করলে স্থিতি ফিলে আসবে। বন্দরে চাল আটকা থাকায় দেশীয় মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

ভারতীয় ট্রাকচালক গোলাম রাব্বানি বলেন, ভারত থেকে আমদানীকৃত চাল নিয়ে স্থলবন্দরে আসার ২১ দিন হয়ে গেল। কিন্তু এখন পর্যন্ত ট্রাক থেকে চাল খালি হয়নি। আমরা সঙ্গে করে যে খাবার নিয়ে আসছিলাম, সেটিও শেষ হয়ে গেছে। টাকা-পয়সাও শেষ।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, চালের আমদানি শুল্ক কমানোয় গত ২৩ জুলাই থেকে বন্দর দিয়ে আবারো ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম দিকে চাল আমদানির পরিমাণ থাকলে বর্তমানে আমদানি কিছুটা বেড়েছে। প্রথমের দিকে তিন-পাঁচ ট্রাক চাল আমদানি হয়েছে। বর্তমানে ২০-২৫ ট্রাক করে চাল আমদানি হচ্ছে। তবে আমদানি বাড়লেও চাল খালাস হচ্ছে না। খালাস প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে বর্তমানে বন্দরে ১৮৮ ট্রাকে ৭ হাজার ৭০০ টন আমদানীকৃত চাল আটকে আছে। এতে বন্দরে পণ্যজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বন্দর দিয়ে ২৩ জুলাই থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ২৪৩টি ট্রাকে ৯ হাজার ৮৭৩ টন সিদ্ধ চাল ও ১২২টি ট্রাকে ৫ হাজার ১ টন আতপ চাল আমদানি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকার চালের আমদানি শুল্ক বাড়ানোয় গত বছরের ৩১ অক্টোবর থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি দেশীয় চালের সরবরাহ কমায় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। এতে করে ২৩ জুলাই থেকে বন্দর দিয়ে পুনরায় চাল আমদানি শুরু হয়।