দক্ষিণ কোরিয়াকে আবারো পছন্দের বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে যাচ্ছে জাপান। গত শুক্রবার জাপান সরকার এমনটা জানিয়েছে। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়াও জাপানকে একই তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করে। খবর জাপান টাইমস। 

২০১৯ সালে জাপান পছন্দের বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে ‘সাদা তালিকা’ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। তখন জাপান সরকারের অভিযোগ ছিল, এ সুবিধা ব্যবহার করে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সামরিক পণ্য উত্তর কোরিয়ায় যাচ্ছে, যা নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। 

দক্ষিণ কোরিয়ায় জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনামল থেকে দুই দেশের মধ্যে জোরপূর্বক শ্রমের ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের কারখানাগুলোয় দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমিকদের শ্রম দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। লম্বা সময় ধরেই সিউল এর ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছে। ২০১৯ সালে এ-সংক্রান্ত বিরোধ আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে জাপান সাদা তালিকা থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার নাম প্রত্যাহার করে নেয়। প্রতিক্রিয়ায় একই কাজ করে দক্ষিণ কোরিয়াও। 

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় দুই দেশের মধ্যকার বৈরী সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করেছে। ২০২১ সালের নভেম্বরে ঐতিহাসিক এ বিরোধ নিষ্পত্তিতে দেশ দুটির মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মূলত তার পর থেকেই অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে সিউল ও টোকিও।

জাপানের অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জানায়, দক্ষিণ কোরিয়াকে বাণিজ্যিক মর্যাদাটি ফিরিয়ে দিতে কাজ শুরু করেছে জাপান সরকার। এরই মধ্যে রফতানি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় জনমত গ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা মন্ত্রিসভার অনুমোদনও পেয়েছে।

এদিকে জাপানের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য, শিল্প ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন রফতানি নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাসও দিয়েছে মন্ত্রণালয়টি। 

রফতানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সংক্রান্ত বাণিজ্যিক মর্যাদা নিয়ে দুই দেশ এরই মধ্যে মতবিনিময় করেছে এবং একটি পলিসি ডায়ালগের মাধ্যমে সেটির কার্যকারিতা নিশ্চিত করেছে। 

প্রসঙ্গত, কোনো দেশের সঙ্গে অনুকূল বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্যই সে দেশকে পছন্দের বাণিজ্য অংশীদার করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশ দুটি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ও কোটাসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে আনতে সম্মত হয়।