চীনের পর ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশ। ২০১১ সালে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন প্রথমবারের মতো ১০ কোটি টনের মাইলফলক ছাড়িয়ে যায়। এর পর থেকে দেশটিতে তিন বছর বাদে (২০১২, ২০১৪ ও ২০১৫ সাল) প্রতি বছরই চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। টানা পাঁচ বছরের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় চলতি বছর ভারতে চালের সম্মিলিত উৎপাদন আগের তুলনায় বেড়ে ১২ কোটি টনের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। ফলে এটাই হবে ভারতের ইতিহাসে চাল উৎপাদনের সর্বোচ্চ রেকর্ড। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। খবর ইকোনমিক টাইমস ও বিজনেস রেকর্ডার।
ইউএসডিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ভারতে সব মিলিয়ে ১১ কোটি ৮০ লাখ টান চাল উৎপাদন হতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেশি। গত বছর দেশটিতে মোট ১১ কোটি ৭৯ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ভারতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন বাড়তে পারে এক লাখ টন। এর মধ্য দিয়ে টানা পাঁচ বছর ধরে ভারতে চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকবে।
২০১১ সালে ভারতে ১০ কোটি ৫৩ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইউএসডিএ। পরের বছর দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ কমে ১০ কোটি ৫২ লাখ টনে নেমে আসে। তবে ২০১৩ সালে দেশটিতে চালের উৎপাদন ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে ১০ কোটি ৬৬ লাখ ৪৬ হাজার টনে উন্নীত হয়।
২০১৪ ও ২০১৫ সালে ভারতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদনে যথাক্রমে ১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ ও ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ মন্দা ভাব বজায় ছিল। ২০১৪ সালে দেশটিতে মোট ১০ কোটি ৫৪ লাখ ৮২ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়। পরের বছর তা আরো কমে দাঁড়ায় ১০ কোটি ৪৪ লাখ ৮ হাজার টনে।
ভারতের চাল উৎপাদন খাত প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে ২০১৬ সালে। ওই বছর দেশটিতে মোট ১০ কোটি ৯৬ লাখ ৯৮ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। ২০১৭ সালে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন আরো ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে ১১ কোটি ২৭ হাজার টনে উন্নীত হয়। আর ২০১৮ সালে ভারতে ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।










