মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাই তেল পরিবহনের জাহাজ বা ট্যাংকারের অভাব দেখা দিয়েছে। এতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারের দৈনিক ভাড়া প্রথমবারের মতো ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। জাহাজ ভাড়ার এ অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা জ্বালানি তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

বাল্টিক এক্সচেঞ্জের তথ্যের বরাতে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর থেকে তেলবাহী একটি ট্যাংকারের দৈনিক ভাড়া ১০ লাখ ৩৫ হাজার ডলারে ঠেকেছে। উপসাগরের বাইরের ভাড়াও বেড়েছে সমানতালে। ওমান উপসাগর থেকে চীনে জ্বালানি তেল পরিবহনকারী ট্যাংকারের ভাড়া বেড়ে প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বাড়ায় অনেক মালিক সে পথে ট্যাংকার চলাচল বন্ধ রেখেছেন। ফলে জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য উপযুক্ত জাহাজের সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে বিশ্বের অন্যান্য তেল পরিবহন রুটেও।

রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্ক থেকেও বেড়েছে ট্যাংকারের ভাড়া। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জাহাজ ও বন্দরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় সেখানে বেড়েছে ঝুঁকিও। ৬ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে নভোরোসিস্ক থেকে পশ্চিম ভারতগামী আফ্রাম্যাক্স ট্যাংকারের ভাড়া বেড়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। উত্তর চীনের ক্ষেত্রে বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। এ নিয়ে টানা সপ্তম সপ্তাহ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের ভাড়া বেড়েছে।

ট্যাংকারের ভাড়া বাড়ায় ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি তেল পৌঁছানোর খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনিতেই যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও মজুদ কমে গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, আগস্টে বিশ্বে পর্যবেক্ষণ করা তেলের মজুদ কমেছে ৯ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল। ফেব্রুয়ারি থেকে মজুদ কমেছে মোট ৫০ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে হামলার কারণে সমুদ্রে থাকা জ্বালানি তেলের পরিমাণও ৬ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল কমেছে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনও ড্রোন হামলার পর বন্ধ রয়েছে। এটি মেরামতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তেলের ট্যাংকার এখন সাইবার হামলারও ঝুঁকিতে পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী অন্তত দুটি জ্বালানি ট্যাংকারে সম্ভাব্য সাইবার হামলার তদন্ত করছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। হামলার ঘটনা জিব্রাল্টারের কাছে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে সংকটের কারণে দাম বেড়েছে পুরনো ট্যাংকারেরও। একটি ব্যবহৃত ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ারের (ভিএলসিসি) দাম এখন প্রায় ১৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। নতুন ট্যাংকার তৈরি করতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে। একই ধরনের নতুন জাহাজের দাম প্রায় ১৩ কোটি ডলার। ব্যবহৃত সুয়েজম্যাক্সের দাম ১৩ কোটি এবং আফ্রাম্যাক্সের দাম ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি তেল সরবরাহে বাধার কারণে ট্যাংকারের সংকট আরো বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহনের খরচও বাড়বে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।