বৈশ্বিক অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন কমেছে। ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী ১৮৬ কোটি ৪০ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে দশমিক ৯ শতাংশ কম। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

সংস্থাটির প্রতিবেদন বলছে, ২০২০ সালে এশিয়ার দেশগুলোতে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৩৭ কোটি ৪৯ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে বরাবরের মতো এবারও উৎপাদনে শীর্ষ স্থানে রয়েছে চীন। গত বছর দেশটিতে উৎপাদন ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫ কোটি ৩০ লাখ টনে। ২০১৯ সালে বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদনে চীনের অবদান ছিল মোট উৎপাদনের ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশে।

অন্যদিকে ভারতের অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ১০ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। ২০২০ সালে দেশটির উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৯৬ লাখ টনে। অন্যদিকে জাপানের উৎপাদন ১৬ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৩২ লাখ টনে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার উৎপাদন কমেছে ৬ শতাংশ। ২০২০ সালে দেশটির মোট অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৭১ লাখ টন।

এদিকে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ২০২০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৮৮ লাখ টনে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ কমে ২০২০ সালে জার্মানির উৎপাদন ৩ কোটি ৫৭ লাখ টনে নেমেছে। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০-এ অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২০ সালে জোটটির মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ২০ লাখ টন। এর মধ্যে রাশিয়ার উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০২০ সালে দেশটির মোট ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৩৪ লাখ টন। অন্যদিকে ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ২০২০ সালে ইউক্রেনের অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৬ লাখ টনে।

এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ওশেনিয়া মহাদেশেও কমেছে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ। তবে মধ্যপ্রাচ্যে বেড়েছে ধাতব পণ্যটির উৎপাদন। ২০২০ সালে আফ্রিকা মহাদেশে মোট ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল তার আগের বছরের সমান।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চীনের ইস্পাত উৎপাদন বাড়লেও বিশ্ববাজারে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী আমেরিকার উৎপাদন কমেছে। ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ২০২০ সালে আমেরিকার অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ২৭ লাখ টন।