নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী বদলে দিয়েছে ব্যবসার ধরন। দেশে দেশে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সামাজিক দূরত্বের ভাবনার বাস্তবায়ন দেখা গেছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। এর বড় একটি উদাহরণ ইন্দোনেশিয়ার রাইস এটিএম। আমরা এটিএম বুথ থেকে যেমন টাকা তুলি, ইন্দোনেশিয়ানরা ঠিক সেই উপায়ে সহজেই চাল কিনতে পারছেন।

করোনার ধাক্কা সামলাতে অন্য দেশগুলোর মতো লড়াই করছে ইন্দোনেশিয়া সরকারও। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের মহামারীতে এরই মধ্যে পর্যটনবান্ধব দেশটির অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সামগ্রিক অর্থনীতির সুরক্ষায় গত মার্চে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বিশেষ তহবিল গঠন করেছে দেশটি। জনগণকে দেয়া হচ্ছে চালসহ বিশেষ রেশন। এ তহবিল থেকেই রাজধানী জাকার্তায় বেশ কয়েকটি রাইস এটিএম চালু করা হয়েছে। এর আগে ভিয়েতনামেও চাল বিক্রির জন্য এটিএম চালু করা হয়েছে।


ইন্দোনেশিয়ার রাইস এটিএম দেখতে একেবারেই ব্যাংকিং এটিএমের মতো। তবে তা থেকে টাকার বদলে চাল বের হয়। সাধারণ মানুষ সামাজিক দূরত্ব মেনে সারিবদ্ধভাবে এসব এটিএম থেকে চাল সংগ্রহ করতে পারছেন। এজন্য তাদের বিশেষ একটি ম্যাগনেটিক কার্ড ব্যবহার করতে হয়। ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এসব রাইস এটিএম পরিচালনা করা হচ্ছে।

দায়িত্বে নিয়োজিত সেনা কর্মকর্তা ইব্রাহিম জানান, প্রতিদিন এসব এটিএম থেকে স্বল্প আয়ের প্রায় এক হাজার মানুষ সব মিলিয়ে দেড় টন চাল রেশন হিসেবে পাচ্ছেন। জনগণের সুবিধার্থে ছুটি ছাড়াই সপ্তাহে সাতদিন রাইস এটিএম চালু রাখা হচ্ছে। তবে শর্ত একটাই, এখান থেকে চাল সংগ্রহে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।

জাকার্তা পোস্ট ও রয়টার্স অবলম্বনে