মজুরির চেয়ে দাম দ্রুত বাড়ায় জাপানের লোকেরা নতুন করে গাড়ি এবং রেফ্রিজারেটরের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্র ক্রয় করছে না। মার্চ ২০০৫ থেকে মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত তুলনামূলক সরকারি ডাটা বিশ্লেষণ করেছে নিক্কেই এশিয়া। এতে দেখা গেছে, ১১টি পণ্য রিপ্লেসমেন্ট দীর্ঘায়িত হয়েছে।
১১টি বিভাগের গড় রিপ্লেসমেন্ট সময় ২০২৩ সালের মার্চের শেষ পর্যন্ত ৯ দশমিক ২ বছর ছিল। এটা একটা রেকর্ড। ২০০৫ সালের মার্চে রিপ্লেসমেন্ট সময় ছিল ৬ দশমিক ৭ বছর। বর্তমানে এটি প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
জাপানের মন্ত্রিপরিষদ অফিসের কনজিউমার কনফিডেন্স সার্ভে থেকে প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে রয়েছে ওয়াশিং মেশিন, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন ও গাড়ি।
ওয়াশিং মেশিনের মতো সাদা পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সময় ৯ দশমিক ৩ বছর থেকে বেড়ে ১১ বছর হয়েছে। মোবাইল ফোনের প্রতিস্থাপন সময় ২ দশমিক ৪ বছর থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৪ বছর হয়েছে। যেখানে নতুন গাড়ির জন্য ৬ দশমিক ৭ বছর থেকে সময় বেড়ে ৯ দশমিক ১ বছর হয়েছে।
নতুন পণ্য কিনতে গিয়ে জাপানি ভোক্তারা ঊর্ধ্বমুখী মূল্যের সম্মুখীন হচ্ছেন। নির্মাতারা গত বছর থেকে উপকরণ ক্রয় ও বিদ্যুৎ খরচে বেশি অর্থ ব্যয় করছেন।
টোকাই টোকিও রিসার্চ সেন্টারের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মাসাহিকো ইশিনো বলেন, ‘টেকসই পণ্যগুলোর মধ্যে খরচ করতে গিয়ে ভোক্তা পছন্দ আরো বেশি নিখুঁত হয়ে উঠছে।"ভোক্তারা এমন দামি যন্ত্রপাতি কিনছে না যেগুলো স্বল্পস্থায়ী। এর পরিবর্তে তারা সৌর প্যানেলের মতো উচ্চ ভর্তুকিযুক্ত পণ্য কিনছে।’
ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও ফোনের মতো পণ্য ক্রয়ে একটি পতন দেখা গেছে। ভোক্তাদের মধ্যে নতুন ডিভাইস বা লেটেস্ট মডেল ক্রয় করতে চায় সমীক্ষায় এদের সংখ্যা ২৯ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। এ সংখ্যা ২০০৫ সালের মার্চ থেকে ১৫ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট কম।
ভোক্তাদের আস্থা সামগ্রিকভাবে কমেছে। এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত টেকসই পণ্য কেনার ইচ্ছার সূচক ২০০৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০ দশমিক ১ পয়েন্ট কমেছে।
একটি প্রধান ইলেকট্রনিকস স্টোর চেইনের একজন প্রতিনিধি জানান, সাদা জিনিসপত্র যেমন রেফ্রিজারেটর এবং ওয়াশিং মেশিনের দাম বর্তমানে ২-৩ লাখ ইয়েনের মধ্যে। এ কারণে নতুন মডেল বিক্রি করা কঠিন হয়ে উঠেছে।
টোকিওতে একটি রেফ্রিজারেটরের মূল্য অক্টোবর পর্যন্ত ২ লাখ ২০ হাজার ইয়েনে উঠেছিল, যা ২০০৫ সালের একই মাসের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণবিষয়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সমীক্ষা অনুসারে৷ ওয়াশিং মেশিনের মূল্য প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। প্রাইভেটকার প্রায় ২২ লাখ ৩০ হাজার ইয়েনে পাওয়া যাচ্ছে। এটা ৩০ শতাংশের কিছু বেশি বেড়েছে।
প্যানাসনিক ২০২২ সালে ২৫০টিরও বেশি পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। নিশান ও হোন্ডার মতো অটোমেকাররা চলতি বছর প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের দাম বাড়িয়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা নতুন কেনাকাটা উৎসাহিত করার বিভিন্ন উপায় খুঁজছেন। বিক ক্যামেরা কোম্পানির স্টোরগুলো পুরনো কম্পিউটারের বিনিময় মূল্য বৃদ্ধি করছে। ইয়োডোবাশি হোল্ডিংস নতুন স্টোরে ভোক্তারা যাতে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা পান এমন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।










