বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি এ দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানান বাংলাদেশে ইইউর রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি। এ সময় তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যকার বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। তবে বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের মধ্যে কৌতূহলোদ্দীপক আলোচনা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা নিয়ে আমরা কথা বলেছি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষাসহ এখানে আমরা বিভিন্ন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছি। তাই আমরা এসব খাতে কিছু প্রকল্প ও বাজেট সহায়তা নিয়ে কথা বলেছি। বাণিজ্য ও ব্যবসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’
চার্লস হোয়াইটলি আরো বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ ২৪ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য রফতানি করে থাকে। এ দেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিনিয়োগ বাড়াতে আমরা আগ্রহী এবং এর অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা অর্থমন্ত্রীর কাছে তার পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চেয়েছি। যদিও তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন বেশি দিন হয়নি। সরকারের অর্থনৈতিক ও আর্থিক প্রকল্পে আমরা সহায়ক অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চাই।’
২০২৬ সালে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ সহজ হোক, আমরা সেটিই চাচ্ছি। অবশ্যই জিএসপি প্লাসে সহজ রূপান্তর চাচ্ছি। আমরাও এ বিষয়ে জোর দিচ্ছি। কারণ এটা বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের নেপথ্যে রয়েছে। ইউরোপীয় চেম্বারস অব কমার্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে কীভাবে বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারি, সেদিকেই আমরা আলোকপাত করছি।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ‘ইইউতে জনশক্তি রফতানির বিষয়ে কথা হয়েছে। সেখানে অবৈধভাবে কেউ অভিবাসী হিসেবে যাক, সেটি আমরা চাই না। আমরা চাই, আইনিভাবে সেখানে অভিবাসন হোক। ইতালিতে বাংলাদেশীরা অনেক সুনাম অর্জন করেছে এবং তাদের সেখানে অনেক চাহিদা। ইইউর তথ্যানুসারে, বছরে ইতালি থেকে বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে। জার্মানিতেও বাংলাদেশী অভিবাসীদের সুনাম রয়েছে। আমাদের এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশকে সহায়তার পরিকল্পনা করছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।










