বিদ্যুৎ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের নরসিংদীতে অবস্থিত ২২ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি)। বিদ্য়ুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, ১৮ ফেব্রুয়ারি বিআরইবির পক্ষ থেকে চিঠির মাধ্যমে বিদ্যমান চুক্তির শর্ত ও ট্যারিফ অনুসারে নরসিংদীর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির কার্যক্রম চালু রাখতে সংস্থাটির সম্মতির বিষয়টি ডরিন পাওয়ারকে জানানো হয়েছে। নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট ভিত্তিতে আরো পাঁচ বছরের জন্য বিদ্য়ুৎ কেন্দ্রটির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগ পর্যন্ত বিদ্যমান চুক্তি অনুসারে কেন্দ্রটির কার্যক্রম চালু থাকবে। কোম্পানিটি বর্তমানে চুক্তি নবায়নের শর্ত ও ট্যারিফের বিষয়ে বিআরইবির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।  

এর আগে কোম্পানিটি জানিয়েছিল, ১৫ ফেব্রুয়ারি ডরিন পাওয়ারের ২২ মেগাওয়াট সক্ষমতার ফেনী বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গত বছরের ১১ নভেম্বর ২২ মেগাওয়াটের টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বন্ধ রয়েছে।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় হয়েছে (ইপিএস) ২ টাকা ৮৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭৬ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫২ টাকা ৯৪ পয়সায়।  

সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমসের পর্ষদ। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৫৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯ টাকা ২১ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা ৪৭ পয়সায়য়, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪৭ টাকা ৪৬ পয়সা। 

২০০৮ সালের নভেম্বরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়। ডরিন পাওয়ার ২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৮১ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭০২ কোটি ১২ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৮ কোটি ১১ লাখ ১৮ হাজার ৯০২। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৬৬ দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া ১৯ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।