যুক্তরাষ্ট্রের তাপীয় কয়লা রফতানি সূচক এপ্রিলে নিম্নমুখী। মাসিক ভিত্তিতে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৩১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। বছরওয়ারি রফতানি কমেছে ১০ শতাংশ। এশিয়ার বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া ও ইউরোপীয় বাজারে উচ্চ মজুদই রফতানি হ্রাসের প্রধান কারণ। এমনটাই দাবি করা হয়েছে মার্কিন পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে। খবর রয়টার্স।
মার্কিন কয়লা রফতানি এপ্রিলে ছিল পূর্ববর্তী তিন মাসের সর্বনিম্নে। বাল্টিমোর থেকে রফতানি কয়লার প্রতি টনের গড় দাম ছিল ১০৮ ডলার ২৬ সেন্ট। মার্চে ছিল প্রতি টন ১০৮ ডলার ৮ সেন্ট ও ফেব্রুয়ারিতে ১১৮ ডলার ৬৩ সেন্ট। সূচক কমে যাওয়ার পেছনে চাহিদা হ্রাসকেই প্রধান কারণ হিসেবে দাবি করেছেন বিশ্লেষকরা।
বিটুমিনাস কয়লার রফতানি ২৭ লাখ টনে নেমে এসেছে এপ্রিলে, যা মাসিক ভিত্তিতে ৩৭ শতাংশ ও বছরওয়ারি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কম। যদিও ইয়ার-টু ডেট (ওয়াইটিডি) হিসেবে ২০২২ সালের তুলনায় রফতানি ৭ শতাংশ বেশি।
সাববিটুমিনাস কয়লার চালান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৭৩৯ টনে। মাসিক ভিত্তিতে ১ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়লেও বছরওয়ারি রফতানি কমেছে ২৫ শতাংশ। ২০২২ সালের প্রথম চার মাসের তুলনায় সাববিটুমিনাস কয়লার চালানে ঘাটতি রয়েছে ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যান্য থার্মাল কয়লার মধ্যে রয়েছে লিগনাইট ও অ্যানথ্রাসাইট।
এপ্রিলে মার্কিন রফতানি কয়লার অধিকাংশই আমদানি করেছে ভারত। মার্চে ১৬ লাখ টন থাকলেও এপ্রিলে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৬৪৫ টন। আমদানির তালিকায় দক্ষিণ কোরিয়া রয়েছে ভারতের পরেই। আমদানি করা তাপীয় কয়লার পরিমাণ ৬ লাখ ১২ হাজার ১৯০ টন। এদিকে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৮ টন কয়লা আমদানির মাধ্যমে মরক্কো রয়েছে তৃতীয় স্থানে। অন্যান্য রফতানি গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস, মিসর ও জার্মানি।
মার্কিন তাপীয় কয়লা রফতানির তালিকায় বাল্টিমোরই রয়েছে শীর্ষে। এপ্রিলে ১২ লাখ টন তাপীয় কয়লা রফতানি করা হয়েছে, যেখানে মার্চের চালান ছিল ১৭ লাখ টন। নিউ অরলিন্স ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৮৮২ টন চালান পাঠানোর মাধ্যমে দখল করে আছে দ্বিতীয় স্থান। যদিও মার্চে নিউ অরলিন্সের রফতানি ছিল ১২ লাখ টন। এপ্রিলে ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৩৬৫ টন তাপীয় কয়লা রফতানির মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে সিয়েটল। অন্যান্য প্রধান তাপীয় কয়লার বন্দর যথাক্রমে নরফোক ও সানফ্রান্সিসকো।










