চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে পূর্বাভাস ছাড়িয়ে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা পেয়েছে ডিবিএস গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেড। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। ক্রমবর্ধমান সুদহার সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্যাংকটির মুনাফা বাড়াতে সহায়তা করেছে। যদিও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বৃহৎ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অনিশ্চয়তা নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পুঁজি থাকা ব্যাংকটি কভিড-১৯ সংক্রান্ত মন্দা খুব ভালোভাবেই মোকাবেলা করেছে। সংস্থাটি এখন এশীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সুদহারের ব্যাপক পরিবর্তন এরই মধ্যে কয়েক বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর করায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ডিবিএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পীযূষ গুপ্তা বলেন, বর্তমানে আমার চিন্তা হচ্ছে, আপনিও মন্দা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রভাব রাখতে পারেন। যদি যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার ৫ শতাংশে উন্নীত হয়, তাহলে তা এশিয়ায় মন্দার ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে এবং তার ফলে কতটা ঋণ লেনদেন হবে তা অস্পষ্ট। আমরা দীর্ঘদিন এ ধরনের পরিস্থিতি দেখিনি।

সম্প্রতি ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরো সুদহার বাড়ানোর ইঙ্গিতও দেয়া হয়েছে। ডিবিএস জানিয়েছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ২২৪ কোটি সিঙ্গাপুরি ডলারে (১৫৮ কোটি ডলার) দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসে বলা ১৯৭ কোটি সিঙ্গাপুরি ডলারের তুলনায় যা অনেক বেশি। ব্যাংকটি এ প্রান্তিকে টেকসই ব্যবসায়িক গতি দেখেছে এবং পণ্যের মান স্থিতিশীল ছিল বলেই জানিয়েছেন পীযূষ গুপ্তা। আগামী বছরের বিষয়ে তিনি বলেন, পাইপলাইনে যেসব ঋণ রয়েছে তা বেশ ভালো। ফলে এক অঙ্কের মাঝামাঝি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে।

সাধারণত সিঙ্গাপুর ও হংকং থেকেই বেশি আয় করে ডিবিএস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ প্রান্তিকে মোট ফি ও কমিশন আয় কমে গিয়েছে ১৩ শতাংশ। নিম্নগামী বাজারে সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসা দুর্বল হয়ে পড়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও গুপ্তার পূর্বাভাস বলছে, আগামী বছরে আয়ের প্রবৃদ্ধি হবে দুই অংকের। সেখানে নেতৃত্ব দেবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবসা।

ডিবিএস গ্রুপের স্থানীয় সমকক্ষ ইউওবি গ্রুপও গত সপ্তাহে তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা পূর্বাভাস ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। কারণ সুদের হার থেকে আয় বেড়েছে এবং ঋণের খরচ কমে গিয়েছে।

তৃতীয় প্রান্তিকে ডিবিএসের বার্ষিক রিটার্ন অব ইকুইটি ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। নিট সুদ মুনাফা ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট সুদের এ মার্জিন আগের বছরের ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ থেকে বেড়ে এ প্রান্তিকে ১ দশমিক ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। চলতি বছরে মোট সুদের মার্জিনে বড় বিস্তৃতির প্রত্যাশায় এখন পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের ব্যাংকগুলোর শেয়ারদর বেড়েছে ৪ শতাংশ।