বৈশ্বিক বাজারে উইন্ড টারবাইনের ক্রয়াদেশ গ্রহণের পরিমাণ চলতি বছরের প্রথমার্ধে ১২ শতাংশ বেড়েছে। চীন ও উত্তর আমেরিকা বাদেও অন্যান্য দেশের চাহিদা বৃদ্ধি ক্রয়াদেশ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মোট ক্রয়াদেশ গ্রহণের পরিমাণ পৌঁছেছে রেকর্ড ৬৯ দশমিক ৫ গিগাওয়াটে। এমনটাই দাবি করা হয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।

উড ম্যাকেঞ্জির দাবি, চীনের বাইরে থেকেই ক্রয়াদেশ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। উত্তর আমেরিকার ক্রয়াদেশের পরিমাণ চার গুণের বেশি বেড়ে ৭ দশমিক ৭ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। বিশ্বের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ব্যয় করে চীন। বছরের প্রথমার্ধে দেশটি ৪৪ গিগাওয়াট ক্রয়াদেশ দিয়েছে। যদিও দেশটির চাহিদা বছরের পর বছর একই ছিল। বিশ্বব্যাপী মোট ক্রয়াদেশের পরিমাণ প্রথমার্ধে ৪ হাজার ৫০ কোটি ডলার ছিল, যা দ্বিতীয় প্রান্তিকে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৩০ ডলারে।

উড ম্যাকেঞ্জির গ্লোবাল রিনিউয়েবল রিসার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট লুক লেভান্ডোস্কি বলেন, ‘আমরা এ বছর চীনের বাইরেও জোরালো চাহিদা দেখেছি, যা সত্যিই উৎসাহজনক। তবে এখনো সরবরাহ চেইনে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ক্রয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণে পরিস্থিতি যথেষ্ট উন্নত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি হ্রাস আইন (আইআরএ) এ ক্রয়াদেশের পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করেছে। যদিও ক্রমবর্ধমান স্বচ্ছতা ও বাজারের নিশ্চিয়তা পরিমাণকে আরো বাড়াবে।’

আইআরএ গত বছর কিছু কিছু খাতে কর ছাড় দেয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বায়ুশক্তি, সৌরশক্তি ও জলবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য শক্তি খাতগুলো। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ি সম্প্রসারণে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। গোল্ডম্যান স্যাকস্ জানায়, এর ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে ৩ ট্রিলিয়ন কোটি বিনিয়োগ টানতে সক্ষম হবে।

উড ম্যাকেঞ্জি জানায়, চলতি বছরের প্রথমার্ধে অফশোর অর্ডার গ্রহণের পরিমাণ ২৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১২ গিগাওয়াট হয়েছে, যা দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪৮ শতাংশ বেড়ে ৯ দশমিক ১ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। গ্লোবাল উইন্ড এনার্জি কাউন্সিল অনুসারে, অফশোর উইন্ড ইন্ডাস্ট্রির জন্য ২০২২ সাল ছিল দ্বিতীয় সেরা বছর। ২০৩২ সালের মধ্যে প্রায় ৩৮০ গিগাওয়াট নতুন অফশোর উইন্ড তৈরি করা হবে। যার প্রায় অর্ধেক এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে আসবে। কাউন্সিল থেকে অনুমতি ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সমস্যার কারণে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার জন্য তার নিকটমেয়াদি পূর্বাভাস কমিয়েছে। দাবি করেছে, চীন ছাড়া প্রতিটি অঞ্চলের জন্য সরবরাহ চেইন একটি বাধা।

ইউরোপীয় টারবাইন নির্মাতারা ধীরগতির পারমিট অনুমোদন, কাঁচামাল ও পরিবহনের ক্রমবর্ধমান খরচ এবং চীনের প্রতিযোগিতার কারণে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এ বছরের বিনিয়োগ ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছবে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যয়কে ছাড়িয়ে যাবে। কারণ দেশগুলো সম্ভাব্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি ঘাটতি মোকাবেলা করতে চায়। ২০২৩ সালে বৈশ্বিক জ্বালানি ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। যার মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি নবায়নযোগ্য, বৈদ্যুতিক যান, পারমাণবিক শক্তি ও তাপ পাম্পসহ প্রযুক্তির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। বাকি ৪০ শতাংশ খরচ হবে কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ও অপরিশোধিত তেলের জন্য।