চীনের বাজারে সয়াবিনের চাহিদা বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী বিপণন মৌসুমে সয়াবিনের বৈশ্বিক চাহিদা ১ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। ২০১৯-২০ সালের বিপণন মৌসুমে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) কৃষিপণ্যটির চাহিদা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৪ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার টনে। ইউএসডিএর সাম্প্রতিক প্রাক্কলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর কমোডিটি অনলাইন।

সয়াবিনের বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় বাজার চীন। কৃষিপণ্যটির ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদার সিংহভাগই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে বেইজিং। আর চীনের বাজারে আমদানি হওয়া সয়াবিনের সবচেয়ে বড় জোগানদাতা যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২০১৮ সালের মাঝামাঝি শুরু হওয়া বাণিজ্যযুদ্ধে সয়াবিন বাণিজ্যে ধস এবং চীনে সোয়াইন ফ্লুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় সয়াবিনের চাহিদা কমে যায়। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে গত জুনে দেশটিতে সয়াবিন আমদানি ২৫ শতাংশ কমে যায়।

কিন্তু ইউএসডিএর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোয়াইন ফ্লুর প্রাদুর্ভাব থাকা সত্ত্বেও আগামী মৌসুমে চীনে কৃষিপণ্যটির চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। এ সময় দেশটিতে সয়াবিনের চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৮ কোটি ৫০ লাখ টন, যা গত মৌসুমের চেয়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। 

অন্যদিকে সয়াবিন রফতানিতে আগামী মৌসুমে ব্রাজিল শীর্ষে থাকবে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ। এ সময় দেশটিতে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ১২ কোটি ৩০ লাখ টনে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ কোটি ৬৬ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। আর এ মৌসুমে দেশটির রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৭ কোটি ৬৫ লাখ টনে, যা জুলাইয়ের প্রাক্কলনের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।  

তবে এ সময়ে ব্রাজিলের সয়ামিল রফতানি কমে যাওয়ার প্রাক্কলন করেছে ইউএসডিএ। পণ্যটির রফতানিতে দ্বিতীয় শীর্ষে থাকা দেশটির রফতানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ৫২ লাখ টনে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কম।

আর ২০১৯-২০ বিপণন মৌসুমে (সেপ্টেম্বর-আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে ইউএসডিএ। এ সময়ে দেশটির সয়াবিন উৎপাদন ১০ কোটি টনে পৌঁছতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় দেশটির উৎপাদন কমে যাবে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ।

তবে উৎপাদন কমে গেলেও দেশটির রফতানি বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করে সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ৪ কোটি ৮৩ লাখ টন সয়াবিন রফতানি হতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। আর রফতানি শেষে দেশটির মজুদের পরিমাণ দাঁড়াতে ২০ কোটি ৫ লাখ টনে, যা তার আগের মৌসুমের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম।

অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ৮০ লাখ টন রফতানি হতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।