ভারত ভোজ্যতেল আমদানি কমানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়ায় ফিউচার মার্কেটে নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী ভোজ্যতেলের দামও এক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকা রেখেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার। 

বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে গতকাল মালয়েশিয়ান বাজার আদর্শ পাম অয়েলের এপ্রিল সরবরাহ চুক্তির দাম ৩৮ রিঙ্গিত বা ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৩ হাজার ৭৬০ রিঙ্গিত (৭৯৫ ডলার ২৫ ডলার)। এ সপ্তাহে চুক্তিটির দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে।

ভারতের অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি জানান, বিশ্বের শীর্ষ ভোজ্যতেল উৎপাদক দেশগুলো থেকে বেশি দাম দিয়ে আমদানি কমাবে ভারত। এ পরিকল্পনার বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়াতে জোর দেয়া হচ্ছে। এ খবরেই গতকাল মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম কমে যায়। 

ডালিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া সয়াবিনের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির দাম গতকাল দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। সেখানে পাম অয়েলের দাম কমেছে ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে সয়াবিন তেলের দাম কমেছে দশমিক ২ শতাংশ। এসব এক্সচেঞ্জে ভোজ্যতেলের দাম কমে যাওয়াও মালয়েশিয়ান পাম অয়েলকে নিম্নমুখী চাপে ফেলেছে। 

জানা গেছে, গত ১-২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মালয়েশিয়া ৯ লাখ ১৯ হাজার ১৩৯ টন পাম অয়েল রফতানি করেছে। দেশটিতে চলতি বছর পাম অয়েল উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা দেখা গেছে। বছর শেষে উৎপাদনের পরিমাণ ১ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টনে উন্নীত হতে পারে বলে মনে করছে দেশটির পাম অয়েল বোর্ড (এমপিওবি)। শ্রমিক সংকট কিছুটা নিরসন হওয়ায় উৎপাদন নিয়ে আশাবাদী দেশটির খাতসংশ্লিষ্টরা।

এমপিওবির মহাপরিচালক আহমেদ পারভেজ গুলাম কাদির জানান, বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক দেশটিতে চলতি বছর মজুদ প্রায় ১৯ লাখ ৫০ হাজার টনে নামতে পারে, গত বছর যা ছিল ২২ লাখ ৯০ হাজার টন। 

তিনি আরো জানান, ২০২৩ সালে ১ কোটি ৫১ লাখ টন পাম অয়েল রফতানি করেছিল মালয়েশিয়া। এ বছর তা কিছুটা বেড়ে ১ কোটি ৫৬ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। প্রতি টনের মূল্য ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ রিঙ্গিতের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৩ সালে মিশ্র প্রবণতায় ছিল মালয়েশিয়ার পাম অয়েল খাত। তবে এ বছর পরিস্থিতি অনেকটাই ইতিবাচক থাকবে। প্রধান সব নির্দেশকের উন্নতি হয়েছে।