চিনির সবচেয়ে বড় উৎপাদনকারী দেশ ভারত। দেশটিতে সম্প্রতি চিনির উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি ভারত সরকার চিনি রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে চিনির দাম লাগামছাড়া হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

দ্য স্ট্রেইট টাইমসের খবরে বলা হচ্ছে, সম্প্রতি চিনির মূল্যবৃদ্ধির হার এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এক পাউন্ড কাঁচা চিনির মূল্য উঠেছে দশমিক ২৬ ডলারে। ২০১৩ সালের একই সময়ে এই মূল্য ছিল দশমিক ১৭ ডলার।

চিনির উৎপাদন কমে যাওয়ায় ভারত পণ্যটি রফতানিতে সীমা আরোপ করে দিয়েছে। অল ইন্ডিয়া সুগার ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, শ্রী প্রফুল্ল জগজীবনদাস বিথালানির বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানাচ্ছে, যদি নতুন করে রফতানির অনুমতি পাওয়া যায়, তাও সেটা ডিসেম্বরের আগে সম্ভব হবে না। অবশ্য আগের চালানের কিছু চিনি এ মাসের শেষদিকে পাঠানোর কথা রয়েছে।

স্ট্রেইট টাইমসের বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ভারত ২০২৪ সালের আগে চিনির কোনো নতুন চালান রফতানি করতে পারবে না। এমন একটি সময়ে সংকট সৃষ্টি হলো, যখন চীন এবং থাইল্যান্ডেও চিনির উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে।

২০২২-২৩ সালে দেশটি প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টন চিনি উৎপাদন করবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে আশানুরূপ উৎপাদন হয়নি। ইন্ডিয়ান সুগার মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শ্রী আদিত্য ঝুঝুনওয়ালা বলেন, বর্তমান উৎপাদন চক্রে উৎপাদন কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। উৎপাদন কম হওয়ার জন্য আশানুরূপ বৃষ্টিপাত না হওয়াকেই দায়ী করছেন তিনি। ঝুঝুনওয়ালা বলেছেন, বৃষ্টি হয়েছে ঠিকই। তবে প্রয়োজনীয় সব এলাকায় বৃষ্টিটা হয়নি।

২০২১-২১ সালে ভারত রেকর্ড ১ কোটি ১০ লাখ টনের বেশি চিনি রফতানি করেছে। যার বেশিরভাগই পাঠানো হয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ, সুদান, সোমালিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে। এবার রফতানি সীমিত করার ফলে উল্লিখিত দেশগুলোতে চিনির মূল্যের ওপর প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।