চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি। এ গতিশীলতার নেপথ্যে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে দেশটির ভোক্তা পর্যায়ের ঊর্ধ্বমুখী ব্যয়। যদিও উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতির প্রভাবে এর গতি খানিকটা শ্লথ। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি প্রথম প্রান্তিকের মোট দেশীয় উৎপাদনের (জিডিপি) তথ্য প্রকাশ করেছে। এ প্রতিবেদনে মার্কিন অর্থনীতির মন্দা পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার আভাস দেখা গেছে। যদিও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনো সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থায় রয়েছে। ১৯৮০-এর দশকের পর যা ফেডারেল রিজার্ভের দ্রুততম সুদ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। এছাড়া ফেডের কঠোর আর্থিক নীতির ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মন্দার ঝুঁকির মধ্যেই থাকছে দেশটি।

এদিকে জানুয়ারিতে ভোক্তা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির পর সম্প্রতি প্রকাশিত অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলোয় অবশ্য খানিকটা নিম্নমুখী পরিস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। খুচরা বিক্রির পরিমাণও কমেছে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে। এ বিষয়ে নিউইয়র্কের এফএইচএন ফাইন্যান্সিয়ালের ম্যাক্রো স্ট্র্যাটেজিস্ট উইল কম্পারনেল বলেন, ‘প্রথম প্রান্তিকের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটা আগের মতোই। কেননা এখন বিভিন্ন ব্যাংক দেউলিয়া হয়েছে। আমরা এমন একটা বাস্তবতায় আছি যেখানে অনেক ব্যবসায়ী বিনিয়োগ করতে আগ্রহ হারাতে পারেন অথবা তারা ক্রেডিট শর্তে কঠোর অবস্থানে যেতে পারেন।’

অর্থনীতিবিদদের নিয়ে পরিচালিত রয়টার্সের সমীক্ষা অনুসারে, চতুর্থ প্রান্তিকে ২ দশমিক ৬ শতাংশ গতিতে বৃদ্ধির পর জিডিপি প্রবৃদ্ধি বার্ষিক ২ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। আনুমানিক প্রবৃদ্ধির হার দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে থাকবে।

এদিকে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী সপ্তাহে সুদের হার আরো ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। ফেড গত মার্চ থেকে পলিসি রেট ৪৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে। শূন্য স্তর থেকে যা বর্তমানে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ হয়েছে। 

যদিও জরিপটি পরিচালিত হয়েছিল বাণিজ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সাপ্তাহিক খুচরা বিক্রয় তথ্যের বার্ষিক সংশোধন প্রকাশের আগে। জানুয়ারির অনুমিত হিসাব অনুসারে বিক্রি ততটা শক্তিশালী নয়। তাছাড়া ফেব্রুয়ারিতে খুচরা বিক্রয় আগের প্রতিবেদনের তুলনায় অনেক দুর্বল ছিল। কিছু প্রতিষ্ঠান জিডিপি বৃদ্ধির অনুমান কমিয়েছে। যেমন ওয়েলস ফার্গো এটির আগের পূর্বাভাস থেকে শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে দিয়েছে।

এ সম্পর্কে উত্তর ক্যারোলিনার শার্লটের ওয়েলস ফার্গোর প্রধান অর্থনীতিবিদ জে ব্রাইসন বলেন, ‘যদি সর্বশেষ সংশোধন ঘিরে আমাদের ব্যাখ্যা সঠিক হয়, তাহলে প্রথম প্রান্তিকে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্ধেক হারে হতে পারে, যা বর্তমানে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত।’

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ত্বরান্বিত হয় ভোক্তা ব্যয় থেকে। ধারণা করা হচ্ছে, যা পরিষেবা চাহিদা দ্বারা চালিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে কঠোর শ্রমবাজারের প্রভাব তো রয়েছেই।

বৃহস্পতিবার শ্রম বিভাগের পৃথক একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, বেকারত্ব সুবিধাসংক্রান্ত দাবির পরিমাণ আগের সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে ২ লাখ ৪৫ হাজার থেকে বেড়ে ২ লাখ ৪৮ হাজারে পৌঁছেছে। দাবিগুলো বেড়েছে মার্চ থেকে। যদিও শ্রমবাজার ঘিরে আশঙ্কা বাড়াতে পারে, এমন স্তরের নিচে রয়েছে। তবে ব্যবসার পাশাপাশি পরিবারের জন্য ঋণ প্রাপ্তির সুবিধা হ্রাস শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে কয়েকজন অর্থনীতিবিদ অবশ্য যুক্তি দিয়েছিলেন যে মন্দার ভয় তেলের মতো পণ্যের দাম কমিয়ে দিচ্ছে, যা ব্যবসার জন্য ব্যয়ের চাপ কমাতে ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে উপকৃত করতে সহায়তা করতে পারে। তবে টানা অষ্টম প্রান্তিকে আবাসিক বিনিয়োগের পরিমাণ সংকুচিত হওয়ার পূর্বাভাসসহ খাতটির বাজারে খানিকটা মন্দা অবস্থা বিরাজ করছে। যদিও পতনের গতি চতুর্থ প্রান্তিকের তুলনায় মন্থর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।