বিলাসবহুল গাড়ির প্রতি ঝোঁক থাকার কারণে সিঙ্গাপুরে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) বিক্রিতে শ্লথগতি দেখা যাচ্ছে। বৈশ্বিক জলবায়ু সুরক্ষায় কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশটি। সে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ি বিক্রি বন্ধের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তার বদলে প্রচলিত হবে ইভি। কিন্তু দেশের বিত্তশালী অংশের বিলাসবহুল গাড়ি ও সুপারকার প্রীতির কারণে ইভি বিক্রিতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।  

আইসল্যান্ড, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসও ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহৃত গাড়ি শূন্যে নামানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। সেখানে দ্রুত বাড়ছে ইভি। সিঙ্গাপুর প্রতিশ্রুতি দিলেও এখানে বাজার অপেক্ষাকৃত ধীর। এর মধ্যে সরকার ইভি উৎপাদন বাড়াতে নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে এমন গতি যথেষ্ট নয়। ল্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির জরিপ অনুযায়ী, গত বছরে দেশটিতে মোট বিক্রীত গাড়ির মধ্যে ইভি ছিল ১২ শতাংশ, যা তার আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে। 

২০২১ সালে ইভির পরিমাণ ছিল ৪ শতাংশ। ২০৩০ সাল নাগাদ দেশটিতে ৬০ হাজার চার্জিং পয়েন্ট স্থাপন করতে চায় সিঙ্গাপুর। বর্তমানে রয়েছে মাত্রা ১ হাজার ৬০০।

রয়টার্সের দাবি অনুসারে, সিঙ্গাপুরের রাস্তায় এখনো চলাচল করা গাড়ির মাত্র ১ শতাংশ ইভি। সিঙ্গাপুর একটা ছোট দ্বীপ দেশ। গণপরিবহনের ব্যবহারই বেশি। প্রতি ১০০ জনে ১২ জন সেখানে গাড়ি ব্যবহার করে। অন্যদিকে হংকংয়ে এ সংখ্যা নয়জন ও আমেরিকায় ৮২ জন। গত দশকে দেশটিতে ফেরারি বেড়েছে ৬৭ শতাংশ। ল্যাম্বরগিনি বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। ম্যাকলারেন বেড়েছে পাঁচ গুণ। দেশটির রাস্তায় টেসলার চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি দেখা যাবে পোরশে।