তবে চাহিদা বাড়ায় ইন্দোনেশিয়ার রোবাস্তা কফির প্রিমিয়াম বা সংযোজিত মূল্য কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোবাস্তা কফি উৎপাদনকারী দেশ ভিয়েতনামের প্রধান উৎপাদন অঞ্চলগুলোয় কফির দর স্থিতিশীল রয়েছে। দেশটির সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডসের কৃষকরা বর্তমানে প্রতি কেজি কফি বিক্রি করছেন প্রায় ৩ ডলার ৭২ থেকে ৩ ডলার ৭৪ সেন্টে (৯৭ হাজার ২০০-৯৭ হাজার ৭০০ ডং)। আগের সপ্তাহে ভিয়েতনামে প্রতি কেজি কফি ৯৬ হাজার ৩০০ থেকে ৯৭ হাজার ডংয়ে বিক্রি হয়েছিল। ফলে গত সপ্তাহে বাজারে সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ভাব দেখা গেলেও সামগ্রিক লেনদেন ছিল বেশ ধীরগতির।

ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের এ সময়ে অধিকাংশ কৃষক মজুদ কফি বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে বর্তমানে বিক্রি করার মতো পর্যাপ্ত কফি যেমন কৃষকদের হাতে নেই, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রেতাদের কাছ থেকেও নতুন করে কেনাবেচার বড় কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের এক ব্যবসায়ী বলেন, বছরের এ নির্দিষ্ট সময়ে বাজারে লেনদেন কম থাকা একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে আগামী মৌসুমের ফসল নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা না গেলেও প্রাথমিক অবস্থায় গাছে কফির গুঁটি বা ফল বেশ ভালো দেখা যাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তি হিসেবে প্রতি কেজি কফি ৯১-৯৪ হাজার ডং পর্যন্ত দর হাঁকা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক কফি বাজারে গত বুধবার নভেম্বর মেয়াদের রোবাস্তা কফির সরবরাহ চুক্তিমূল্য প্রতি টনে ১১ ডলার কমে ৩ হাজার ৭২৮ ডলারে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে ভিয়েতনামের বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ইন্দোনেশিয়ার বাজারে। সেখানে কফির প্রিমিয়াম বা সংযোজিত মূল্য আগের চেয়ে বেড়েছে। সুমাত্রা রোবাস্তা কফি গত সপ্তাহে নভেম্বরের সরবরাহ চুক্তির তুলনায় টনপ্রতি ২৫০ ডলার প্রিমিয়ামে অফার করা হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ ডলার। অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, সেপ্টেম্বরের চুক্তির ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৫ ডলারে, যা আগের সপ্তাহে ছিল মাত্র ৮৫ ডলার। ইন্দোনেশিয়ার লামপুং অঞ্চলের কফিচাষীরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আগামী মৌসুম আশাব্যঞ্জক হচ্ছে।