সত্তরের দশকে ভারতীয় কোম্পানি পিওর ড্রিংকস লিমিটেডের হাত ধরে বাজারে আসে ক্যাম্পা কোলা। পণ্যটি অল্প সময়ে ভারতের বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয় পানীয়ে পরিণত হয়, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে। ১৯৭৭ সালে ভারতের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার অর্থনীতি উদারীকরণ নীতি গ্রহণ করে। ফলে দেশটির বাজারে কোকা-কোলা-পেপসির আগমনের পথ সুগম হয়। বিপরীতে ধীরে ধীরে বাজার হারায় ক্যাম্পা কোলা। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে বাজার থেকে হারিয়ে যায় পানীয়টি।
গত বছর ধনকুবের মুকেশ আম্বানি ফের ক্যাম্পা কোলাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। আম্বানির রিলায়েন্স কনজিউমার প্রডাক্টস লিমিটেড গত সেপ্টেম্বরে ২২ কোটি রুপি দিয়ে পিওর ড্রিংকস গ্রুপের কাছ থেকে কিনে নেয় ক্যাম্পা কোলা ব্র্যান্ড। ঘোষণা করেন ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে ভারতীয়দের তৃষ্ণা মেটাতে ক্যাম্পা কোলা, ক্যাম্পা লেমন ও ক্যাম্পা অরেঞ্জ—এ তিন স্বাদ নিয়ে হাজির হবে পানীয়টি।
তবে বাজার কৌশল হিসেবে ভারতীয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল জায়ান্ট রিলায়েন্স তাদের বৃহৎ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের পাশাপাশি পণ্যটির দাম কমানোর মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাছাড়া মার্কিন পানীয় ব্র্যান্ড পেপসি ও কোকা-কোলাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য জাতীয়তাবাদী মনোভাব ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়েও অগ্রসর হচ্ছে বলে খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স।
অনেকের মনে হতেই পারে জনপ্রিয় পানীয় পেপসি ও কোকা-কোলার বাজারে ভাগ বসানো আম্বানির জন্য খানিকটা কঠিন হবে। তবে ইউরোমনিটর অনুমান করছে, ২০২৭ সাল নাগাদ ৪৬০ কোটি ডলার মূল্যসহ বার্ষিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি অর্জন করবে এটি।
রিচার্ড ব্র্যানসনের মতো সুপরিচিত টাইকুনরা পেপসি-কোলা-কোলার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে না পারলেও আম্বানির পক্ষেই ভোট দিচ্ছেন অনেকে। উল্লেখ্য, রিচার্ড ব্র্যানসন তার ভার্জিন কোলা নিয়ে বাজারে তেমন প্রভাব ফেলতে সমর্থ হয়নি।
এক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরি, এশিয়ার সবচেয়ে ধনী আম্বানি সাত বছর আগে ভারতের টেলিকম বাজারে প্রবেশ করে আগ্রাসী কৌশলের মাধ্যমে রিলায়েন্সকে শীর্ষে নিয়ে যান। এবার কোমল পানীয়ের ক্ষেত্রেও তিনি একই কৌশলের পুনরাবৃত্তি করতে যাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউরোমনিটর ইন্টারন্যাশনালের পরামর্শক অমূল্য পণ্ডিত মনে করেন, ‘ভারতজুড়ে কোকা-কোলা ও পেপসিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। রিলায়েন্সের আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, তাছাড়া স্থানীয় ব্র্যান্ড হওয়ায় ক্যাম্পা কোলা ঘিরে মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্মৃতিকাতরাও বিদ্যমান। আম্বানি মূলত তাকে পুঁজি করেই প্রতিপক্ষের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন।’
রিলায়েন্সের পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এক ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেন, ‘ক্যাম্পা পানীয় তৈরির জন্য যৌথ উদ্যোগ কিংবা কয়েকটি নিজস্ব কারখানা তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তাছাড়া হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ফ্লাইটে পানীয়টি বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করছে তারা।’
দোকানে পানীয়টি রাখার ক্ষেত্রেও ব্যাপক ছাড় দেয়া হচ্ছে। একটি দুই লিটারের ক্যাম্পা কোলা বোতলের দাম দোকানে ৪৯ রুপি (৬০ ইউএস সেন্ট), যা লেবেল মূল্যের ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ ছাড়। তাছাড়া ২ দশমিক ২৫ লিটার কোক ও পেপসির বিভিন্ন পানীয়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম। ক্যাম্পা কোলা ও কোকের সবচেয়ে ছোট বোতলের দাম ১০ রুপি, পেপসির দাম ১২ রুপি থেকে শুরু।
আসন্ন আইপিএল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সময় পণ্যটির নতুন প্রচারণা পরিকল্পনা ঘিরেও অগ্রসর হচ্ছে রিলায়েন্স। ক্যাম্পা পানীয়কে রিফ্রেশমেন্ট পার্টনার করার জন্য কমপক্ষে তিনটি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে তাদের জানায় রিলায়েন্সের পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই ব্যক্তি।
এ বিষয়ে রিলায়েন্সের কাছ থেকে মন্তব্য জানতে চাইলে তারা রয়টার্সের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। পেপসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে নীতিগতভাবে তারা প্রতিযোগিতা সম্পর্কিত বিষয়ে মন্তব্য করে না। তবে কোকা-কোলার পক্ষ থেকে বলা হয়, গত বছর থেকেই ছোট বোতলের দাম অপরিবর্তিত রাখার পাশাপাশি বিপণনে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে।










