মধ্য সিউলে অবস্থিত একটি জাদুঘরের সামনের আঙিনা। আর তাতে আপাত উদ্দেশ্যহীনভাবে ইতস্তত ঘুরে বেড়াচ্ছে অনেক মানুষ। তারা নীরবে একে অন্যের পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। সবার চোখ হাতে ধরা স্মার্টফোনের পর্দায় নিবদ্ধ। তারা পাগলের মতো পর্দায় স্ক্রল করে যাচ্ছে। এটিই বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার টাকা উপার্জনের ট্রেন্ড। খবর রয়টার্স।
দক্ষিণ কোরিয়ার স্টার্টআপ ভিভা রিপাবলিকার একটি ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অ্যাপের নাম টস। এর মাধ্যমে প্রতিবারে ১০ সেন্ট পর্যন্ত টাকা আয় করা যায়। তবে তার জন্য এ অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ১০ হাজার স্টেপ হাঁটতে হবে। এর মধ্যেই কয়েকটি কাজ সম্পন্ন করতে হবে। যেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় সাবস্ক্রাইব করা কিংবা পর্দায় কেবল ট্যাপ করা।
দক্ষিণ কোরিয়ায় যুবকদের বেকারত্বের হার অনেক বেশি। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। এমন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে টস অ্যাপের মতো অ্যাপ্লিকেশনগুলো দেশটিতে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার জব পোর্টাল ইনক্রুট সম্প্রতি একটি জরিপ করেছে। এ ধরনের অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে দেশটির প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে তিনজন টাকা আয় করে বলে জরিপে উঠে এসেছে। তাদেরই একজন বেইক ন-ইয়ং। ২৭ বছর বয়সী এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমি মাত্র ১৫০ ওন (শূন্য দশমিক ১১ ডলার) আয় করেছি। তবে আমি এটি চালিয়ে যেতে চাই।’
জানুয়ারিতে যাত্রা করেছে টসের ক্যাশ-গিভিং ইন-অ্যাপ ফিচার। তখন থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪৪ লাখ মানুষ অ্যাপটি ব্যবহার করেছে। ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোনে অ্যাপটি খোলার সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ভিভা রিপাবলিকার জরিপ থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হান সুন-জে। টস অ্যাপের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫০ হাজার ওন (৩৭ দশমিক ৯১ ডলার) আয় করেছেন বলে জানান তিনি। সিউলের আর্ট মিউজিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে জাদুঘরের কাছেই চাকরি করে। সে আমাকে বলল যে অনেক মানুষ এখানে জড়ো হয়। এখানে আমি আরো বেশি টাকা আয় করতে পারব বলে সে আমাকে জানিয়েছিল।’
২০২২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। ১৯৯৮ সালের পর থেকে দেশটিতে এটিই মূল্যস্ফীতির সর্বোচ্চ রেকর্ড। দেশটিতে খাদ্য ও পরিবহন খরচ যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ ও ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ১৫-২৯ বছর বয়স্ক ৪ লাখ ৯৭ হাজার মানুষ বলেছিল যে তারা চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। তারা সক্রিয়ভাবে কোনো চাকরিও খুঁজছে না। স্ট্যাটিসটিকস কোরিয়া ডাটার রেকর্ড থেকে এ তথ্য জানা যায়।










