ব্যাংকের ব্যাল্যান্স শিট সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশগুলোকে সাহায্য করার জন্য নতুন পরিকল্পনা উন্মোচন করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শেষ পর্যন্ত পুঁজি বৃদ্ধির প্রয়োজন পড়বে বলে মনে করেন তিনি। সাবেক মাস্টারকার্ড সিইও এবং গত ২ জুন থেকে বিশ্বব্যাংকের দায়িত্ব নেয়া বাঙ্গা ভারতের গান্ধীনগরে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি২০-এর অর্থ নেতাদের বৈঠকে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। খবর রয়টার্স।

নতুন পদক্ষেপগুলো নিয়ে এখনো শেয়ারহোল্ডার দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত। এপ্রিলে প্রাথমিকভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অনুমোদিত, যার আওতায় পরবর্তী দশকের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়াবে। বিশ্বব্যাংকের বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অক্টোবরে সংস্কারের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পরে প্রায় ৭০ বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠানটির বিবর্তনকে ত্বরান্বিত করতে নির্দিষ্ট ম্যান্ডেটসহ সাবেক প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাসের উত্তরসূরি হিসেবে বাঙ্গাকে মনোনীত করা হয়।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যানেট ইয়েলেন চলতি সপ্তাহে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর সংস্কারে আরো কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‌আগে জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশগুলোকে সাহায্য করতে বিশ্বব্যাংক তার সক্ষমতা বাড়াক। তার পরই কেবল মূলধন বৃদ্ধির আলাপ আলোচনার টেবিলে তোলা হবে।’

বাঙ্গা তার লিখিত বক্তব্য পাঠে বলেছেন, ‘আমরা দ্রুত অগ্রগতি করছি। আমরা একটি ভালো ব্যাংক তৈরি করছি। কিন্তু আমাদের আসলে একটি বড় ব্যাংকের প্রয়োজন।’ নতুন পরিকল্পনার অধীনে লাখো ডলার ঋণ দেয়া সম্ভব হবে। শেয়ারহোল্ডাররা নিশ্চয়তা পাবে ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো ঋণের মাধ্যমে বিশেষভাবে উপকৃত হবে। এদিকে ধাপে ধাপে বিশ্বব্যাংক নতুন হাইব্রিড মূলধন উপকরণও জারি করতে পারে, যা শেয়ারহোল্ডারদের বন্ডে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। যাতে ব্যাংকটি ৬০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ বাড়াতে পারে।

এটি আরো ঝুঁকি নিতে এবং মূলধনের শর্ত কিছুটা শিথিল করে ঋণ কার্যক্রম আরো প্রসারিত করার প্রস্তাব করে। সরকারগুলোর অর্থ দেয়ার কথা থাকলেও এখনো তা দেয়নি। এটি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ৬০০ কোটি ডলারের ‘সংকটকালীন ঋণ সুবিধা’ চালু করার পরিকল্পনা করেছে। যার আওতায় নামেমাত্র বা সুদমুক্ত ঋণ কার্যক্রমকে আরো প্রসারিত করা হবে।

এর আগে যেকোনো নতুন সংকট মোকাবেলার জন্য তহবিল বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বর্তমানে দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটে কাজ করতেও তৎপর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস জলবায়ুসংক্রান্ত মত ব্যক্ত করে সমালোচিত হন।