এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক সদর দপ্তর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছে ফেডএক্স। বর্তমানে এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তরগুলো হংকংয়ে অবস্থিত। সেখান থেকে প্রধান কার্যালয় সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক করপোরেশনটি। হংকং আন্তর্জাতিক ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে ফেডএক্সের এমন সিদ্ধান্ত হংকংয়ের এ সুখ্যাতির প্রতি একটি বড় ধাক্কা। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস। 

এক ই-মেইল বিবৃতিতে ফেডএক্স জানায়, এশিয়া-প্যাসিফিক, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার সদর দপ্তরগুলোর কিছু কার্যক্রম সিঙ্গাপুর থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ অঞ্চলে আমাদের সব কার্যক্রম আরো দ্রুত ও তৎপর করতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

তবে সিঙ্গাপুরে কার্যক্রম শুরু হওয়া সত্ত্বেও হংকংয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি ধরে রাখবে বলে জানায় ফেডএক্স। প্রধান ভূমিকাগুলো হংকং থেকেই পালিত হবে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানটির ৩৫ হাজার কর্মী আছে। এখান থেকে ১০০টির বেশি দেশে সেবা দেয়া হয় বলে জানায় ফেডএক্স। 

হংকংভিত্তিক কয়েকজন নির্বাহী কর্মকর্তাকে সিঙ্গাপুরে পদায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে ফেডএক্স। তাদের মধ্যে এ অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট কাওয়াল প্রীতও আছেন। নাম গোপন রাখার শর্তে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তিনি আরো জানান, সেপ্টেম্বরে ম্যানেজমেন্ট টিম সিঙ্গাপুরে যাবে বলে হংকংয়ের কর্মীদের বলা হয়েছে।

আমেরিকান কোম্পানিটি হংকংয়ে একটি অফিস রাখবে। সেখানে বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট কর্মীরা থাকবেন। পাশাপাশি তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদ মালয়েশিয়া ও ভারতে স্থানান্তরের কথা ভাবছে ফেডএক্স। ব্যয় কমানোর জন্য তারা এমন পরিকল্পনা করছে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ হয়েছিল। এর কেন্দ্রে ছিল হংকং। কয়েক মাস ধরে হংকংয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান ছিল। ফলে এ বাণিজ্য কেন্দ্রের ওপর তাদের দখল আরো সুসংহত করে বেইজিং। 

সে সময় হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের ওয়াশিংটন অনুমোদন দিয়েছিল। মহামারীর সময় শহরটির ভাগ্য আরো খারাপ হয়। তখন হংকংয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। ফলে সেখানকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কর্মীরা সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে নিজেদের কার্যক্রম সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। চীন জিরো কভিড-১৯ পলিসি থেকে সরে আসার পর হংকং আবার সচল হয়। কিন্তু বিশ্ববাণিজ্যের শ্লথগতি, মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বেড়ে যাওয়ায় এর লজিস্টিকস ইন্ডাস্ট্রি এখনো সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি।