ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ‘বাংলাদেশে ইসলামী অর্থায়ন, ব্যাংকিং ও বীমার সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) আয়োজিত এ সেমিনারে বক্তারা দেশে ইসলামী আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা ও নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমদ সোবহানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য প্রকৌশলী খন্দকার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম ইমরানুল হক বক্তব্য দেন। সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক মুহাম্মদ শামসুল আরেফিন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সেমিনারের সঞ্চালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আবুল বাশার খান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শামসুল হুদা এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ইকবাল আজিম বক্তব্য প্রদান করেন।
সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এবি ব্যাংক পিএলসির কাকরাইল শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফরিদ আহম্মদ ফকির, ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির মিরপুর শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহ আবুল বাশার, ব্যাংকটির ইসলামী ব্যাংকিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহ কামাল, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আনোয়ার হোসাইন সরকার ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং ইউসিবির আশুলিয়া শাখার অপারেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ ফেরদৌস আহমেদসহ খাত সংশ্লিষ্ট অনেকে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতের মূল চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইসলামী ব্যাংকিং, অর্থায়ন ও শরিয়াহভিত্তিক বীমা বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়িয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।
বক্তারা আরো উল্লেখ করেন, ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মূল ভিত্তি হলো শরিয়াহ নীতি, নৈতিকতা ও আমানতদারিতা। তাই শুধু আর্থিক জ্ঞান নয়, বরং ইসলামী অর্থব্যবস্থার মূল্যবোধসম্পন্ন পেশাজীবী তৈরি করা প্রয়োজন। একই সাথে ঋণখেলাপি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে এই খাত পরিচালনা করা কঠিন হওয়ায় ব্যাংকারদের ব্যক্তিগত সততার ওপর জোর দেন তারা।
সেমিনারে বিশেষভাবে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকিং শুধু মুসলমানদের জন্য নয়। এর সেবা ও সুফল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য উন্মুক্ত। একজন অমুসলিম গ্রাহকও এখান থেকে সহজেই সেবা নিতে পারেন।
বক্তারা মত দেন যে, তাকাফুল বা ইসলামী বীমা খাতের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও মানুষকে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এর জন্য গবেষণা বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির সহযোগিতায় সেমিনারটির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী অর্থায়ন, ব্যাংকিং ও বীমা কেন্দ্র। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ব্যাংকিং খাতের বহু পেশাজীবী উপস্থিত ছিলেন।
—বিজ্ঞপ্তি









