ওয়ালমার্ট ও স্টারবাকসের মতো বড় চেইনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহর থেকে নিজেদের আউটলেট বা স্টোর বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর ও ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলোয় খুচরা ব্যবসার ভবিষ্যৎ ঘিরে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বলা হচ্ছে দোকানের আধিক্য, অপরাধ ও জননিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ, কভিড-১৯ পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাড়িতে বসে কাজের প্রবণতা বৃদ্ধি, দোকানের আধিক্য, অনলাইন কেনাকাটা, অত্যধিক ভাড়া এবং শ্রমিক নিয়োগে অসুবিধার কারণে শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান চেইনশপ সরিয়ে নিচ্ছে। খবর সিএনএন।
এ অবস্থায় শহরগুলোয় খুচরা ব্যবসার পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যবস্থাপনাগত কঠোর পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নীতিনির্ধারকরা কীভাবে তাদের শহরগুলোকে ঢেলে সাজিয়ে খুচরা ব্যবসায়কে গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরবেন—শহরগুলোর আর্থিক অবস্থা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যদিও নীতিনির্ধারকসহ রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট উভয় দলের নেতারা দোকানপাট চুরির ঘটনার ভিডিও ও অপরাধ প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা চেইনশপগুলো বন্ধের প্রধান কারণ।
এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র ও ডেমোক্র্যাট নেতা এরিক অ্যাডামস বলেন, ‘অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে আমাদের চেইন স্টোরগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যারা এ কাজের সঙ্গে নিযুক্ত হচ্ছেন তারা চাকরি হারাচ্ছেন। আমরাও দোকানগুলোকে হারাচ্ছি।’
কিছুক্ষেত্রে বড় চেইন স্টোর বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবের ব্যাপকতা বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফার্মেসি স্টোর ওয়ালগ্রিনস বলেছে, তারা ব্যবসায়িকভাবে পিছিয়ে ও লোকসানের মধ্যে রয়েছে। তবে ২০২১ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে পাঁচটি স্টোর বন্ধ করার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে দোকানপাট চুরির কথা উল্লেখ করেছে এটি।
থিংক ট্যাংক জেপিমরগান চেজ ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুসারে, ২০১৭-এর শুরু থেকে ২০২১-এর শেষ পর্যন্ত সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস, সান দিয়েগো, নিউইয়র্ক সিটি, সিয়াটেল, মিয়ামি ও শিকাগো থেকে খুচরা স্টোরগুলো সরে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অপরাধ বৃদ্ধির জন্য দোকানগুলো বন্ধ হয়নি, এর মধ্যে নতুন অনেক প্রবণতাও কারণ হিসেবে কাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রে দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি।
যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলির মতে, ১৯৯৫-২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর নতুন আউটলেট খোলার তুলনায় বন্ধ হয়েছে বেশি। প্রবণতাটি ‘রিটেইল অ্যাপোক্যালিপস’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
উদাহরণস্বরূপ, ওয়ালমার্ট ২০২১ সাল থেকে প্রায় ৪০টি স্টোর বন্ধ করেছে। চলতি বছর আরো ২০টি স্টোর বন্ধ করতে যাচ্ছে। অভিজাত ডিপার্টমেন্ট স্টোর হিসেবে খ্যাত নর্ডস্ট্রম চলতি বছর ১৫টি স্টোর বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। ২০২১ সালে সিভিএসের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, তিন বছরের মধ্যে ৯০০টি স্টোর বন্ধ করতে যাচ্ছে তারা।










