দেশে ও বিদেশে হস্তশিল্পের কয়েক হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। বাংলাদেশ সেখানে রফতানি করছে ৩০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত নীতিসহায়তা, গবেষণা ও তথ্যের ঘাটতি থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় যৎসামান্য হলেও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে এ শিল্প। এমন পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী হস্তশিল্প মেলা। রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে হস্তশিল্পের প্রচার-প্রসার, স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি এবং বিদেশী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করাই এ মেলার লক্ষ্য।

চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি হস্তশিল্পকে ‘‌বর্ষপণ্য’ হিসেবে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার অংশ হিসেবে পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় ১০০টি স্টলে ৩০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে মেলায়। ২৯ জুন পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ মেলা চলবে। 

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘হস্তশিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রযুক্তির কম ব্যবহার, ব্র্যান্ডিং ও প্যাকেজিংয়ে উৎকর্ষের অভাব, ডাটাবেজ না থাকা। আধুনিক প্রযুক্তি ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হস্তশিল্প থেকে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ানো সম্ভব।’ 

বাংলাদেশ হস্তশিল্প প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বাংলাক্র্যাফট) তথ্যানুযায়ী টেরাকোটা, পাটের তৈরি থলে, নকশিকাঁথা, শতরঞ্জি, পাপোশ, বিভিন্ন আকৃতির ঝুড়ি, মোমবাতি, বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী, চামড়ার তৈরি মুদ্রার বাক্স, বেল্টসহ বিভিন্ন ধরনের হস্তজাত পণ্য রফতানি করছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা।

বিশ্বের ৫০টি দেশে হস্তশিল্প রফতানি করে বাংলাদেশ। করোনাকালে অন্যান্য খাত রফতানি বাজারে মুখ থুবড়ে পড়লেও হস্তশিল্প রফতানি তখন প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। যদিও বৈশ্বিক বাজারের তুলনায় তা খুবই কম।

বাজার বিশ্লেষক ওয়েবসাইট আইএমএআরসির তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালে হস্তশিল্পের বৈশ্বিক বাজার ছিল প্রায় ৮৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। সেখানে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ ৩০ মিলিয়নের কাছাকাছি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলারের হস্তশিল্প রফতানি করে বাংলাদেশ। পরের বছর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলারে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১০ দশমিক শূন্য ১ মিলিয়ন, ২০১৬-১৭-তে ১৪ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন, ২০১৭-১৮-তে ১৬ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন, ২০১৮-১৯-এ ১৯ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন, ২০১৯-২০-এ ২০ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ও ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৩ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলার রফতানি আয় হয় এ শিল্প থেকে। তবে সবচেয়ে বেশি আয় হয় ২০২১-২২ অর্থবছরে। এ বছর রেকর্ড ৪২ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ডলার হস্তশিল্প রফতানি করে বাংলাদেশ। পরের বছরই ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা আবার ২৯ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারে নেমে যায়। তবে ইপিবির সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত হস্তশিল্প পণ্য রফতানি হয়েছে ৩২ মিলিয়ন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি।

হস্তশিল্পে বাংলাদেশের রফতানি ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি জানিয়ে বাংলাক্র্যাফটের সভাপতি এসইউ হায়দার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারি আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।’