নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর ধাক্কা খেয়েছে মালয়েশিয়ার পাম অয়েল রফতানি খাত। টানা লকডাউনের কারণে চীন-ভারতসহ দেশে দেশে চাহিদা শ্লথ হয়ে আসায় মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল রফতানিতে টান পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ধস ঠেকাতে পণ্যটির রফতানি বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মালয়েশিয়া সরকার। রফতানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে জুনে বিদেশী ক্রেতাদের কাছে বিনা শুল্কে পাম অয়েল বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। খবর রয়টার্স ও স্টার অনলাইন।

মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ডের (এমপিওবি) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে  দেশটিতে প্রতি টন পাম অয়েলের রফতানি শুল্ক ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ধার্য রয়েছে। অর্থাৎ দেশটি থেকে পাম অয়েল আমদানিতে বিদেশী ক্রেতাদের সাড়ে ৪ শতাংশ হারে শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে। তবে জুনে তাদের কোনো ধরনের শুল্ক দিতে হবে না। এ শুল্কহার শূন্য শতাংশে নামিয়ে এনেছে সরকার।

মূলত রফতানি বৃদ্ধির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিদ্যমান শুল্কহার সাড়ে ৪ শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের জুনের জন্য পণ্যটির রেফারেন্স প্রাইস টনপ্রতি ২ হাজার ১২২ দশমিক ৭৭ রিঙ্গিত (মালয়েশিয়ান মুদ্রা) নির্ধারণ করেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাম অয়েল উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ মালয়েশিয়া।

নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর কারণে চীন-ভারতসহ বিভিন্ন দেশে মালয়েশীয় পাম অয়েলের আমদানি চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে। এ ধাক্কা সামাল দিতে পারছে না মালয়েশিয়ার পাম অয়েল রফতানি খাত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পণ্যটির দরপতনের চ্যালেঞ্জ। সর্বশেষ কার্যদিবসে দেশটির বাজারে প্রতি টন পাম অয়েল ২ হাজার ১৩০ রিঙ্গিতে বেচাকেনা হয়েছে, যা প্রায় ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর মধ্য দিয়ে বছর শুরুর সময়ের তুলনায় মালয়েশীয় পাম অয়েলের দাম ৩৫ শতাংশ কমে গেছে। চাহিদা না বাড়লে আগামী দিনগুলোয় পণ্যটির দাম আরো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।