সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় কোম্পানিটির সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি লভ্যাংশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৭০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৯১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৯ টাকা ৮৭ পয়সায়। ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ৩০ জুন দুপুর ১২টায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৭ জুন।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বীমা দাবিসহ মোট ব্যয়ের তুলনায় মোট আয়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২০ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। আগের বছরের একই সময়ে এক্ষেত্রে মোট ব্যয়ের তুলনায় মোট আয়ে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ২১৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এ বছরের মার্চ শেষে কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিল ৬ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬ হাজার ২৯ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বীমা তহবিল বেড়েছে ৮৬৮ কোটি টাকা।

২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ন্যাশনার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৯১ পয়সা। ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ২৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৭৮ পয়সা।

২০২২ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৩৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর আগের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৩২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৯ হিসাব বছরের জন্য ২৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য মোট ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয় তারা। এর মধ্যে ২০ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ।

১৯৯৫ সালে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১০৮ কোটি ৫২ লাখ ২০ হাজার টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১০ কোটি ৮৫ লাখ ২১ হাজার ৯৮১। এর মধ্যে ৫৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৮ দশমিক ৩১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ডিএসইতে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার সর্বশেষ ৯৭ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ৮২ টাকা ১০ পয়সা ও ১৩৪ টাকা।