চাল উৎপাদনে দুই বছর ধরে ভয়াবহ খরার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল থাইল্যান্ড। তবে ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে দেশটি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম।

ইউএসডিএর পূর্বাভাস বলছে, অনুকূল আবহাওয়া ও যথাযথ পানি সরবরাহের কারণে থাইল্যান্ডে ধানের ফলন ভালো হচ্ছে। ফলে ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশটির চাল উৎপাদন বেড়ে ২ কোটি ১০ লাখ টনে উন্নীত হবে। এদিকে আগামী বছর দেশটিতে পর্যটকের সংখ্যাও বাড়বে। ফলে চালের ব্যবহারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাবে বলে মনে করছে ইউএসডিএ।

তবে ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে দেশটির চাল রফতানি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে বলেও জানায় ইউএসডিএ। থাইল্যান্ডের চাল অন্যান্য দেশের সমমূল্যের চালের তুলনায় মানসম্মত নয়। দেশটির জাহাজীকরণ কনটেইনারের সংকট রয়েছে। এছাড়া পরিবহন ব্যয়ও বেশি। মূলত এসব কারণেই চাল রফতানিতে প্রবৃদ্ধি না আসার আশঙ্কা রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটি ১১ লাখ ৩০ হাজার টন চাল রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ কম।

এদিকে ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে থাইল্যান্ডের ভুট্টা উৎপাদন অপরিবর্তিত থাকবে। এ সময় দেশটি ৫৫ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। সেচের পানি সরবরাহ ভাল থাকায় কৃষিপণ্যটির গুণগত মানও বজায় থাকবে। ফলে বাজারে ভাল দামও পাবে দেশটির ভুট্টা। উৎপাদন ভাল হওয়ায় ২০২০-২১ বিপণন মৌসুমে থাইল্যান্ডের ভুট্টা আমদানি কমেছে। ইউএসডিএর প্রাক্কলন অনুযায়ী, দেশটির ভুট্টা আমদানি আগের মৌসুমের তুলনায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে গমজাত খাদ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশটি ২০২০-২১ মৌসুমে গম আমদানিও কমিয়ে দিয়েছে। আমদানির পরিমাণ ১০ শতাংশ কমে ২৪ লাখ টনে নেমেছে।