আগামী গ্রীষ্মে চীনের বিদ্যুৎ খাত থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাস নিঃসরণ আরো বেশি হবে বলে আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যাওয়ায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়াই এর কারণ। তাছাড়া গত বছরের মহামারীপ্রবণ সময়ের তুলনায় বর্তমানে কারখানা কার্যক্রমও অনেক বেড়েছে। খবর রয়টার্স।
মার্চ ও এপ্রিলে পরপর রেকর্ড মাসিক তাপ কয়লা আমদানিও ইঙ্গিত দেয় যে বিভিন্ন পরিষেবা এখন কয়লাচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি নতুন বাঁক তৈরি করছে। কারণ মোট চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তাপমাত্রার তথ্য প্রদানকারী সংস্থা এম্বারের তথ্যে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিদ্যুৎ খাতের মোট কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাস নিঃসরণের ৪০ শতাংশের জন্য দায়ী চীন। কিন্তু শীর্ষ দূষণকারী থেকে নিঃসরণ টেকসইভাবে বেড়ে যাওয়ার ঘটনা বিশ্বের মোট নিঃসরণে লাগাম দেয়ার প্রচেষ্টাকে সম্ভাব্যভাবে দুর্বল করে দেয়।
২০২২ সালে চীনের গড় তাপমাত্রা ছিল ১ দশমিক ৫ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেটা ১৯৭১-২০০০ সালের গড় থেকে বেশি। ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যানালিটিকসের একটি চিত্রে এমনটা দেখা গেছে। মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, আগামী জুলাই ও আগস্টে তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি থাকবে। রেফিনিটিভ তথ্য বলছে, গ্রীষ্মকাল কাছাকাছি চলে আসায় মাত্রাটা আরো ওপরে উঠতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের চাহিদা অনেক বেশি বেড়ে যাবে, বিশেষ করে জনবহুল পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চলে। কারণ এ দুটি অঞ্চল দেশের সবচেয়ে উষ্ণতম অংশ।
তাছাড়া এসব জায়গা চীনের বড় বড় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রভূমি। জিরো কভিড-১৯ নীতি চীনের জনগণ ও পণ্যের চলাচল বন্ধ করে দেয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সীমিত করে। ২০২২ সালে এ নীতি তুলে নেয়ার পরে এ অঞ্চলের কার্যক্রম বেশ গতি পায়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চীনের দক্ষিণ ও পশ্চিম অংশও দেশটির সবচেয়ে বেশি কয়লানির্ভর অংশ। ফলে যদি সেখানে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেশি বেড়ে যায়, তাহলে এ এলাকায় কার্বন নির্গমনের সবচেয়ে বড় উৎস হবে কয়লা বিদ্যুৎ।
দেশটির চলমান শিল্প খাতের পুনরুদ্ধারের জন্য চীনের বিদ্যুৎ উৎপাদকরা তাপ কয়লা আমদানির দিকে ঝুঁকছেন। শিপ ট্র্যাকিং ফার্ম কেপলারের তথ্য বলছে, এপ্রিলে তাপ কয়লা আমদানি এক বছর আগের তুলনায় ৭৭ শতাংশ বেড়েছে।
শিল্পখাতের বিদ্যুৎ ব্যবহার আরো বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের ধারণা এসির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বেড়ে যাবে, তাতেই কয়লার আমদানি বেড়ে যেতে পারে। বিনিময়ে উচ্চমাত্রায় কয়লা আমদানি ও ব্যবহারের কারণে বিদ্যুৎখাতের নির্গমন আরো বেড়ে যাবে। যদিও চলতি বছরের এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎখাতের নির্গমন ২০২২ সালের শুরুর তুলনায় বেশ নিচের অবস্থানে রয়েছে।










