জুনে অনুষ্ঠিত সভায় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে সুদহার বাড়ার আশঙ্কা। আরেক দফা সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অনুমোদন দেয়ার জন্য তারা প্রস্তুত। আগামী অধিবেশন সামনে রেখে ফেডের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার। খবর রয়টার্স।

সাম্প্রতিক উপাত্ত থেকে জানা যায়, মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করেছে। আগে থেকেই পরিস্থিতি স্থিতিশীলতার দিকে যাত্রা করছে। চলমান পরিস্থিতিতে সুদহার বাড়ানো হবে কিনা তা আলোচ্য। মূল্যস্ফীতি কমানোর যাত্রায় নিশ্চয়তা আনতে সুদহার আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে বিপরীত মতও রয়েছে। কম মূল্যের চেষ্টা এর মধ্যেই যথেষ্ট চাপ তৈরি করেছে। সুদহার আরো বাড়ানো হলে অর্থনীতি ও শ্রমবাজার বিধ্বস্ত হয়ে যেতে পারে।

ফেডের পরবর্তী সভা ২৫-২৬ জুলাই। নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন সুদহার হয়তো ৫ দশমিক ২৫ থেকে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশের মধ্যে উত্তীর্ণ করা হতে পারে। ফেডের প্রধান জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, অধিকাংশ নীতিনির্ধারকই আরো দুই দফা সুদহার বাড়ানোর পক্ষে। বিপরীতে গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়েলার বলেছিলেন, ‘‌আগের দফায় সুদহার বাড়ানোটাই অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত সময়ে প্রভাবিত করবে। সাম্প্রতিক উপাত্ত অনেকটাই আশাপ্রদ। কিন্তু একটা তথ্যই সবকিছুকে প্রকাশ করে দেয় না।’

অর্থনীতিবিদদের মতে, সাধারণত সুদহার বাড়ানোর সর্বোচ্চ ১৮-২৪ মাস পর দেশীয় অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়ে। ২০২২ সালের মার্চের পর থেকে ফেড যে সুদহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, সে অনুযায়ীই পরবর্তী সিদ্ধান্ত তৈরি করা হতে পারে। যদিও ফেডের কেউ কেউ এখনো কৌশলগত অবস্থান নিয়েছেন সুদহার বাড়ানোর ব্যাপারে। তারা সুদহার বাড়ানোর পথ এখনই বন্ধ করতে চান না। চলতি বছরের জুনে ভোক্তাব্যয় দুর্বল হয়ে আসছে। প্রতিবেদন বলছে, আমদানি মূল্য ও উৎপাদন খরচ উভয়ই ছিল প্রত্যাশার চেয়ে উঁচু।

উৎপাদন সূচক অনুসারে, ভোগ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমে আসছে। ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য আমদানি খরচ কম থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তার ওপর পণ্যের মূল্য প্রত্যক্ষভাবেই নির্ভর করে। কভিড-১৯-এর সময়ে এটা বেড়েছিল। বেকারত্বের হার এখনো ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। মহামারীর পরিস্থিতির তুলনায় নতুন চাকরি বেড়েছে, পাশাপাশি বেড়েছে বেতন। মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বতার পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে রয়েছে গৃহস্থালি ব্যয়। সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিষয়টি মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

শ্রমবাজার ও ভোক্তাব্যয়ের ঊর্ধ্বমুখী রূপ নিয়ে মূল্যস্ফীতিকে নাগালের মধ্যে আনা সম্ভব হবে কিনা সেটাই এখন বিবেচ্য। জুনের মূল্যস্ফীতির সূচক রিচমন্ড ফেড প্রেসিডেন্ট থমাস বারকিনের মতো কারো কারো জন্য সন্তোষজনক মনে হয়নি। খাদ্য ও ব্যবহার্য পণ্য খাতে ব্যয় এখন মহামারীপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় সামান্য নিচে। জিডিপিতে শিল্প খাতের হিস্যা বেড়েছে।

ফেড যতক্ষণ ঘোষণা না দিচ্ছে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ সমাপ্তির ব্যাপারে, ততদিন পর্যন্ত অর্থনীতিতে ঝুঁকি নিশ্চিহ্ন হয়েছে ভাবতে নারাজ অর্থনীতিবিদরা। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেসন ফারম্যান ২০১৩-১৭ পর্যন্ত বারাক ওবামা প্রশাসনের অন্যতম অর্থনৈতিক পরামর্শক ছিলেন। তিনি এখনো মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দেন। ফেডের নীতিনির্ধারকরা স্বীকার করেছেন নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা। শিকাগো ফেড প্রেসিডেন্ট অস্টান গোলসবি দাবি করেছেন, ‘‌মূল্যস্ফীতি দূর করার জন্য আমাদের কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার।’