আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী লেনদেন শেষে পণ্যটির বাজার স্থির হয়েছিল দুই মাসে সর্বোচ্চে। সেখান থেকে সংশোধন হয়ে গতকাল দাম কিছুটা কমতির দিকে থাকলেও সার্বিকভাবে ঊর্ধ্বমুখিতায় শেষ হওয়ার পথে ছিল জ্বালানি পণ্যটির সাপ্তাহিক বাজার। খবর মার্কেট ওয়াচ, রয়টার্স।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক সংঘাতই এখন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারমূল্যে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রধান প্রভাবক হয়ে উঠেছে। এর বাইরে বাজারে প্রভাব ফেলছে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ ও উৎপাদন কমে আসার তথ্যও। বৃহস্পতিবারের ঊর্ধ্বমুখিতার পর গতকাল বাজারে কিছুটা মূল্য সংশোধনের প্রবণতা দেখা গেলেও তা ক্ষণস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা অনেক।
নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) বৃহস্পতিবার মার্চে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বাড়ে ৩ শতাংশ। দিনব্যাপী লেনদেনে চুক্তিটির আওতায় ডব্লিউটিআইর দাম বেড়েছে ব্যারেলে ২ ডলার ২৭ সেন্ট। বৃহস্পতিবার দিন শেষে পণ্যটির বাজার স্থির হয় প্রতি ব্যারেল ৭৭ ডলার ৩৬ সেন্টে। দিনের সর্বশেষ মূল্য হিসেবে এটি ছিল গত নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
গতকাল লেনদেনের শুরুর দিকে বাজারে কিছুটা মূল্য সংশোধনের প্রবণতা দেখা দেয়। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ সময় বেলা সোয়া ১টা নাগাদ বাজারে ডব্লিউটিআই কেনাবেচা হচ্ছিল প্রতি ব্যারেল ৭৬ ডলার ৭৫ সেন্ট মূল্যে। বাজার বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, পণ্যটির সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
দুই মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকে বৃহস্পতিবার দিন শেষ করেছিল আইসিই ফিউচার্স ইউরোপে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের বাজারও। মার্চে সরবরাহের চুক্তিতে ওইদিন পণ্যটির বাজার স্থির হয় প্রতি ব্যারেল ৮২ ডলার ৪৩ সেন্টে। দিনব্যাপী লেনদেনে পণ্যটির মূল্যবৃদ্ধি পায় ব্যারেলে ২ ডলার ৩৯ সেন্ট বা ৩ শতাংশ।
এরপর দর সংশোধন হয়ে গতকাল দুপুরে ব্রেন্টের মূল্য নেমে আসে প্রতি ব্যারেল ৮১ ডলার ৯৬ সেন্টে। পর্যবেক্ষকদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, গতকাল দিন শেষে পণ্যটির সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে সাড়ে ৪ শতাংশে।
ফ্লোরিডাভিত্তিক বাজার গবেষণা ও তথ্যসেবা সংস্থা সেভেনস রিপোর্ট রিসার্চের কো-এডিটর টাইলার রিচি এ বিষয়ে মার্কেটওয়াচকে বলেন, ‘এক সপ্তাহজুড়ে যেসব খবর পাওয়া গেছে, তার সবই বাজারকে বুলিশ (দরবৃদ্ধির মুখে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিক্রয়ের পরিবর্তে ক্রয়ের প্রবণতা বেড়ে যাওয়া) করে তুলতে ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন হলো যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ও মজুদ হ্রাসের পরিমাণ ব্যবসায়ীদের ধারণার চেয়ে বেশি কমে যাওয়া।’
মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন এজেন্সির এক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ এখন নিম্নমুখী। উত্তোলনও নেমে এসেছে ছয় মোসে সর্বনিম্নে। ওই সময় দেশটিতে দৈনিক উত্তোলন আগের সপ্তাহের তুলনায় ১০ লাখ ব্যারেল কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ব্যারেলে।










