ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে লাওস। এ লক্ষ্যে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক টোকিওভিত্তিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান সোরামিৎসুর সঙ্গে এক চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ ধারাবাহিকতায় গতকাল পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করেছে দেশটি। খবর নিক্কেই এশিয়া।
সোরামিৎসু ২০২০ সালের অক্টোবরে কম্বোডিয়াকে ডিজিটাল মুদ্রা ‘বাকং’ চালু করতে সহায়তা করেছিল। লাওসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিস্টেমের একটি সংশোধিত সংস্করণ ব্যবহার করে ডিজিটাল মুদ্রা তৈরি করবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এ মুদ্রা গ্রাহকদের বিতরণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে লাওসের দোকানগুলো থেকে কেনাকাটা করার কাজে এ মুদ্রা পরীক্ষা করে দেখবে ক্রেতারা। পাশাপাশি কম্বোডিয়ার সঙ্গে ডিজিটাল ক্রস-বর্ডার লেনদেন নিয়েও কাজ করবে লাওস।
লাওসের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে কম্বোডিয়া ‘বাকং’ ও নাইজেরিয়া ‘ই-নায়রা’ নামে ডিজিটাল মুদ্রা চালু করেছে। তবে দুটি ভিন্ন দেশের ডিজিটাল মুদ্রার কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিডিসি) ব্যবস্থাপনা এখনো তেমন প্রচলিত হয়নি। অবশ্য লাওস ও কম্বোডিয়ার প্রত্যাশা, উভয় দেশ একত্রে একটি ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট সিস্টেম চালু করে ডিজিটাল মুদ্রাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিবিডিসি ব্যবস্থা চালুর বিকল্প নেই।
ডিজিটাল মুদ্রার ব্যবহার আর্থিক পরিষেবা আরো সহজলভ্য হওয়ার একটি উপায় হবে বলে মনে করছে ভিয়েনতিয়েন। লাওসের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। তাই ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা চালু হলে দেশটির অধিবাসীরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করতে পারবে। নতুন মুদ্রা ব্যবস্থার মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচও কমে আসবে।
চীনের বাজারে লাওস ও কম্বোডিয়ার বাণিজ্য প্রসারিত হচ্ছে। ফলে উভয় দেশ ইউয়ানের সঙ্গে স্থিতিশীল বিনিময় হারকে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়না এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল ইউয়ান ইস্যু করেছে। চীন ক্রস-বর্ডার লেনদেন ঘোষণার আগে উভয় দেশ তাদের দেশীয় মুদ্রা ব্যবহারের সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।










