মার্সিডিজ-বেঞ্জের ক্যাটালগে পুরোপুরি বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নতুন নয়। তবে কোম্পানিটির নতুন মডেল জিএলসি ইভি একাধিক কারণে আগের মডেলগুলোর তুলনায় আলাদা। আগে জ্বীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির প্লাটফর্মে কিছুটা অদল-বদল এনে তৈরি হতো ইভি। এবার একদম আলাদা ও পুরোপুরি ইভিকেন্দ্রিক প্লাটফর্মে তৈরি হচ্ছে জিএলসি ইভি। মিড-সাইজ এসইউভি সেগমেন্টকে লক্ষ্য করে আনা হয়েছে গাড়িটি।

জিএলসি ইভিতে রয়েছে ৯৪ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি, সর্বোচ্চ ৩৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতায় হাই-পাওয়ার চার্জিং সাপোর্ট এবং এক চার্জে সর্বোচ্চ ৭১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত চলার সক্ষমতা। তবে সর্বোচ্চ সীমা সব ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

ইউরোপের বাজারে এন্ট্রি-লেভেল জিএলসি ৪০০ ফোরম্যাটিক বিজনেস সলিউশন মডেলের দাম পড়ছে ৭৭ হাজার ৭২৫ ইউরো বা প্রায় ৯১ হাজার ডলারের সমতুল্য। এ সংস্করণে সর্বোচ্চ ৬৬৬ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ পাওয়া যায়। সর্বোচ্চ রেঞ্জ পেতে হলে ক্রেতাকে নিতে হবে লং রেঞ্জ এডিশন। এ স্পেসিফিকেশনের জন্য অতিরিক্ত ৩ হাজার ১৮২ ইউরো গুনতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি টেকনিক্যাল প্যাকেজ। যার মধ্যে রয়েছে এয়ারম্যাটিক এয়ার সাসপেনশন, রিয়ার-অ্যাকসেল স্টিয়ারিং ও লো রোলিং রেজিস্ট্যান্স টায়ারসহ ১৯ ইঞ্চি চাকা। সব মিলিয়ে গাড়ির দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি আরো মসৃণ ও স্থিতিশীল গতির দিকে লক্ষ্য রেখে তৈরি এ প্যাকেজ।

অবশ্য অতিরিক্ত প্যাকেজ না নিলেও জিএলসি ইভিতে থাকছে প্রচলিত সাসপেনশন সেট-আপ ও স্ট্যান্ডার্ড টায়ার। শুরু থেকেই এ মডেলের সরঞ্জাম তালিকা বেশ সমৃদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে ১৪ ইঞ্চি সেন্ট্রাল ডিসপ্লে, ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, প্যানোরামিক রুফ, পাওয়ার্ড টেইলগেট ও হিটেড সিট। তবে কি-লেস এন্ট্রি ও বর্ধিত ডিসপ্লে ফাংশনের মতো কিছু ফিচার বড় আকারের অপশন প্যাকের মধ্যে রাখা হয়েছে। এগুলো নিলে গাড়ির দাম স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।

প্রযুক্তিনির্ভর নতুন জিএলসি ইভিকে শহরকেন্দ্রিক বিদ্যুচ্চালিত এসইউভি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য মার্সিডিজ-বেঞ্জের। তবে সর্বোচ্চ রেঞ্জ ও শীর্ষস্থানীয় চেসিস প্রযুক্তি পেতে হলে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতেই হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ক্রেতাদের লং রেঞ্চ এডিশনের দিকে ঝুঁকিয়ে দেয়ার একটি কৌশল।

খবর থার্টিটু কারস