বিশ্বজুড়ে বাড়ছে মন্দার শঙ্কা। এ পরিস্থিতিতে কমেছে ভোক্তা চাহিদা। পণ্য পরিবহন কোম্পানি মায়েরস্ক বলছে, পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে বেশ ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ফলে চলতি বছরের জন্য কনটেইনার চাহিদার যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল, সেখানে কাটছাঁট করতে হবে। এমনকি তৃতীয় প্রান্তিকের আয়ের যে প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তাও পূরণ হয়নি।
এক বিবৃতিতে মায়েরস্কের প্রধান নির্বাহী সোয়েরেন স্কোউ বলেন, তৃতীয় প্রান্তিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এ সময় ফ্রেইটের দামও বাড়ছিল। সরবরাহ চেইনের সংকট কেটে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি ফিরছিল। কিন্তু ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে ইউরোপে জ্বালানি সংকট শুরু হলো, মূল্যস্ফীতি দেখা দিল এবং বিশ্বজুড়ে মন্দার শঙ্কা তৈরি হলো। পুরো ব্যবসা পরিস্থিতিই যেন কালো মেঘের ঘনঘটায় ঢেকে গিয়েছে।
কোপেনহেগেনভিত্তিক কোম্পানিটি বিশ্বের পণ্যবাহী কনটেইনার পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাজারের ১৭ শতাংশের মালিকানা মায়েরস্কের। এ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থাকে বাজার পরিস্থিতি বিবেচনার মানদণ্ড হিসেবে দেখা হয়। ফলে মায়েরস্ক যখন ব্যবসায় মন্দার কথা বলছে তখন খাতটির অবস্থা কিছুটা আন্দাজ করা যায়।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, চলতি বছর কনটেইনারের বৈশ্বিক চাহিদায় ২ থেকে ৪ শতাংশ পতন দেখা গিয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কায় থাকা ২০২৩ সালেও ধারাবাহিকভাবে এমন পরিস্থিতিই বিরাজ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মহামারীকালে ভোক্তা চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে কনটেইনারে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়েছিল। অন্যদিকে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিভিন্ন বন্দরের কার্যক্রমে ধীরগতি, নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ থাকায় পণ্য পরিবহনের গতিও কমে যায়। গত কিছুদিনে পণ্য পরিবহনের খরচ কমে আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু এখনো যে খরচ বহাল রয়েছে তা মহামারীর আগের সময়ের চেয়ে বেশি।
জেপি মরগ্যান বলছে, মধ্যমেয়াদি মুনাফার ক্ষেত্রে উচ্চ অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। আর এটিই এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মায়েরস্কের ইবিআইটিডিএ (মুনাফা, কর, মুদ্রা বিনিময় হার সমন্বয় ও ঋণের সুদহার পরিশোধের আগে আয়) জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেড়ে ১ হাজার ৮৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল, যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬৯৪ কোটি ডলার। এমনকি পূর্বাভাস ৯৭৮ কোটি ডলারকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে এ সময়ের আয়। রাজস্ব ৩৭ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ২৭৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। যদিও কনটেইনার জাহাজীকরণের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।










