নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমায় বিশ্বের বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশ চীনের বাজারে চাল রফতানি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা করছে জাপান।
জাপানের এগ্রিকালচালার কো-অপারেটিভ গ্রুপ (জেএ গ্রুপ) এবং জাপানি পাইকারি বিক্রেতারা এরই মধ্যে এ রফতানি কার্যক্রম শুরুও করেছেন।
খবর কিয়োদো নিউজ।
এসব ব্যবসায়ী চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে একত্র হয়ে চীনে জাপানের উচ্চমানসম্পন্ন ও বেশি দামের চাল বিক্রির প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
চীনে জাপানি খাবারের প্রচলন বৃদ্ধির পেছনেও এর প্রভাব রয়েছে।
যদিও এসব ব্যবসায়ী সম্প্রতি জাপান ও চীনের সহযোগিতামূলক সম্পর্কের পাশাপাশি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি নিয়েও যথেষ্ট সচেতন।
জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত চালের বিপরীতে জাপানে উৎপাদিত চালের দাম দু-তিন গুণ বেশি।
বৈদেশিক বাজারে রফতানি ব্যয় জাপানের চালের দরবৃদ্ধিতে আরো বেশি প্রভাব রাখে বলেও জানায় মন্ত্রণালয়।
ফলে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার জন্য ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর নাগালে চাল পৌঁছানোর জন্য দাম কমানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চীনের বাজারে ভোক্তারা প্রতি বছর ১৪ কোটি টন চাল ক্রয় কেনেন, যা জাপানের চেয়ে ২০ গুণ বেশি।
বর্তমানে জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রতি বছর এক লাখ টন চাল কম কেনাবেচা হয়।
বিশেষ করে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও দেশটিতে শিশুর সংখ্যা কমে আসায় এমনটা ঘটছে।
এপ্রিলে জেএ গ্রুপের টেকিওভিত্তিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেন-নোহ ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন জানায়, তারা তাদের নতুন রফতানিযোগ্য চালের ব্র্যান্ড ‘কিং ফুড’-এর ব্যানারে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত খাদ্য প্রক্রিয়াকারী সংস্থা সিওএফসিওর জন্য নিগাতা অঞ্চলের উৎপাদিত চাল সরবরাহ করবে।
এ চুক্তির আওতায় প্রথম রফতানি চালানের পরিমাণ হবে ৪৮ টন।
জেন-নোহ জানায়, সিওএফসিওর সঙ্গে এ ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
এতে চীনা গ্রাহকদের জন্য জাপানি চাল গ্রহণের সুযোগ আরো বাড়ল।
এরই মধ্যে জাপান সরকার চীনে তাদের চাল রফতানির পরিমাণ ২০১৯ সালের তুলনায় পাঁচ গুণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে।
২০১৫ সালে চীনে ১৯০ কোটি ইয়েন মূল্যের সমপরিমাণ চাল রফতানির লক্ষ্য হাতে নিয়েছে জাপান।
টোকিওভিত্তিক বৃহৎ পাইকারি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কিতোকো শিনরিও কোম্পানি জানায়, তারা ২০১৬ সাল থেকেই চীনে চাল রফতানি করে আসছে।
বিশেষ করে চীনা নতুন বছর উপলক্ষে উপহার দেয়ার জন্য তাদের চাল বিক্রি আরো বেড়েছে।
তবে চাল রফতানির এ ধারা ভবিষ্যতে সহজ নাও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্টরা।










