দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে হবে।
এজন্য নারীর কর্মক্ষেত্র, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং পরিবারকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিতে
হবে। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে নিপীড়ন এবং যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে
পদায়ন করতে হবে। নারীরা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করে নিজেদের কর্মক্ষেত্রে এবং নিজস্ব
জীবনে ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
শনিবার (৯ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত উইম্যান লিডারশিপ
(উইল) সামিটে এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্বেষণ’ স্লোগানে
উইলফেস্টের ৫ম সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত ছিল ৭ম উইমেন লিডারশিপ সামিট, ৮ম ইন্সপায়ারিং উইমেন
অ্যাওয়ার্ড এবং উইলআর্ট ২০২৪।
ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হুমায়রা আজম বলেন, পুরুষতান্ত্রিক
প্রতিষ্ঠানে নারীর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সাহস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নারীর মনস্তাত্বিক বাধা, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, বেড়ে উঠতে উৎসাহিত না করা তাদের আড়ষ্ট
করে দেয়। বিশেষ করে পরিবার এখানে বড় ভূমিকা পালন করে। নারীর বেড়ে ওঠার সময় সত্য বলতে
উৎসাহিত করলে সে পরিবারের নারীরাও সাহসী হয়। আমাকে এটি আমার পরিবার থেকে শুরু করতে
হবে। নারী উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রেও এটি সত্য। উদ্যোক্তাদের সাহসী হতে হবে, অন্যের
চাইতে ভালো করতে পারবে এটি বিশ্বাস করতে হবে। সাহস নিয়ে তাদের এগিয়ে যেতে হবে।
বাংলালিংকের চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার মনজুলা মোরশেদ বলেন, বাংলালিংকের
অন্তর্ভুক্তিতার সংস্কৃতির কারণে আমি গর্ববোধ করি। অন্তর্ভুক্তিতার মাধ্যমে নারীরা
কোনো ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়া আমাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। তাদের জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি
করা হয়েছে। নারীদের সুবিধার জন্য ডে কেয়ার সেন্টার, ক্যাফেটেরিয়া, কফিশপ, জিমসহ নানা
ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। যেগুলো নারীদের নিজের কাজে মনোযোগী করতে সহায়তা করে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এইচআর ডিরেক্টর রিফাত সুলতানা বলেন, নারীদের
বহুমাত্রিক শিল্পে উৎসাহিত করা, কর্মক্ষেত্রে আরো সম্পৃক্ত করতে চাইলে সামাজিক নিরাপত্তা,
কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি নিপীড়ন কমানো, দক্ষতার ভিত্তিতে পদায়নের মতো উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানগুলোকে
নিতে হবে। একইসঙ্গে পরিবার থেকে তাদের উৎসাহিত করতে হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উইলের সভাপতি নাজিয়া আন্দালিব প্রিমা বলেন, আমাদের"এ
বছরের আয়োজনের প্রত্যয় হলো নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যম। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে
নারীদের উৎসাহিত করা এবং তাতে উইল কীভাবে অবদান রাখতে পারে সেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা।"
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের
উপাচার্য অধ্যাপক ইমরান রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সেন্টার ফর ফ্যামিলি বিজনেস অ্যান্ড এন্টারপ্রেনিউরশিপের
নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক তুলসী জয়কুমার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য
জারা জাবীন মাহবুব প্রমুখ।
সামিটে ২টি কিনোট সেশন, ৪টি প্যানেল ডিসকাশন, ১টি ইনসাইট সেশনে নারীর
ক্ষমতায়ন নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।










