বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তরল জ্বালানি খাত। দেশে দেশে লকডাউনসহ নানা বিধিনিষেধ শিথিল হতে থাকায় বাড়ছে পেট্রোলিয়াম ও তরল জ্বালানি পণ্যের চাহিদা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যবহারও। এর সঙ্গে তাল মেলাতে বিশ্বপরিমণ্ডলে বাড়ছে তরল জ্বালানি পণ্যের উৎপাদন। আগামী বছর বৈশ্বিক উৎপাদন বেড়ে করোনা-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)। প্রতিষ্ঠানটির শর্ট-টার্ম এনার্জি আউটলুক শীর্ষক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৯ সালে তরল জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক উৎপাদন ছিল দৈনিক ১০ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল। গত বছর করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে উৎপাদন কমে প্রতিদিন ৯ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে। চলতি বছর উৎপাদন কিছুটা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে ইআইএ। এ সময় সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তরল জ্বালানি উৎপাদন হবে। তবে আগামী বছর ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদন মহামারী-পূর্ববর্তী পর্যায়কে ছাড়িয়ে যাবে। এ সময় উৎপাদন হবে দৈনিক ১০ কোটি ১৮ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল।
প্রতিবেদনে পেট্রোলিয়াম ও অন্যান্য তরল জ্বালানি পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির পূর্বাভাসও দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, গত মে মাসে বৈশ্বিক ব্যবহার গত বছরের একই মাসের তুলনায় দৈনিক ১ কোটি ১৯ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। এ সময় সব মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে দৈনিক ৯ কোটি ৬২ লাখ ব্যারেল। তবে ২০১৯ সালের মে মাসের তুলনায় ব্যবহার ৩৭ লাখ ব্যারেল কমেছে।
পূর্বাভাস বলছে, ২০১৯ সালে বৈশ্বিক ব্যবহারের পরিমাণ ছিল দৈনিক ১০ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল। গত বছর ব্যবহার কমে দৈনিক ৯ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার টনে নেমে যায়। তবে চলতি বছর ব্যবহার বেড়ে দৈনিক ৯ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বছর ব্যবহারের পরিমাণ মহামারী-পূর্ববর্তী পর্যায়কে ছাড়িয়ে দৈনিক ১০ কোটি ১৩ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা ও ব্যবহারের কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক মজুদ ক্রমে কমছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দামে ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত আছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো উত্তোলন বাড়াচ্ছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক। ইআইএ জানায়, চলতি বছর ওপেক দৈনিক গড়ে ২ কোটি ৬৯ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করবে। আগামী বছর গড় উত্তোলন বেড়ে দৈনিক ২ কোটি ৮৭ লাখ টনে উন্নীত হবে।
ইআইএ আরো জানায়, জ্বালানি তেলের বাজার চাঙ্গা করতে উত্তোলন হ্রাসের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ওপেক ও ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো। চলতি বছরের এপ্রিলে জোটের একটি বৈঠকে মে, জুন ও জুলাইয়ে ধারাবাহিকভাবে উত্তোলন বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেয়া হয়। এছাড়া জোটের সবচেয়ে বড় অংশীদার সৌদি আরব একতরফাভাবে উত্তোলন বাড়াচ্ছে। এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে সম্ভাবনা বাড়ছে ইরানের। চলতি বছর দেশটি ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়াবে বলে পূর্বাভাস মিলেছে। মূলত এসব কারণেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেল খাতে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ইআইএ।










