সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্ক সম্প্রতি অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে কৌশলগত খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের সময় দেশ দুটি ৫ হাজার ৭০ কোটি ডলারের বেশ কয়েকটি চুক্তি করেছে, যা দেশ দুটির সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
উপসাগরীয় দেশ সৌদি আরব, কাতারের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট ও আবুধাবির শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকের পরই চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বের স্তরে উন্নীত হয়েছে। এসব চুক্তিতে শক্তি, প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, অর্থ ও মহাকাশসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কৌশলগত সহযোগিতার অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত-তুরস্ক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির কাঠামোকে বৈচিত্র্যময় এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ উপযোগী করা এর মূল উদ্দেশ্য।
চুক্তির ফলে দ্বিপক্ষীয় তেলবহির্ভূত বাণিজ্য ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার থেকে ৪ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উভয় দেশেই অসংখ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। চুক্তির উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো একটি উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করা, যা দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা ও সমন্বয়কে সহজ করবে। চুক্তিতে বিনিয়োগের পারস্পরিক প্রচার ও সুরক্ষা, প্রত্যর্পণ, দেওয়ানি এবং বাণিজ্যিক বিষয়ে আইনি ও বিচার বিভাগীয় সহযোগিতার পাশাপাশি ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনি সহায়তার বিধানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উপরন্তু জ্বালানি খাতে বিশেষ নজর রয়েছে। যেমন দুই দেশের শিল্প ও উন্নত প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত অংশীদারত্বের চুক্তি। সহযোগিতাটি জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ প্রকল্পের উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৃহৎ বিনিয়োগগুলো নবায়নযোগ্য শক্তি, হাইড্রোজেন থেকে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিসহ বিভিন্ন উদীয়মান প্রযুক্তির উদ্যোগকে অন্তর্ভুক্ত করবে। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে যৌথ রকেট যানের সক্ষমতা উন্নয়নে সংযুক্ত আরব আমিরাত স্পেস এজেন্সি, তুর্কি বিজ্ঞান শিল্প ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তুর্কি স্পেস এজেন্সি মিলে কাজ করবে।
সহযোগিতার চুক্তিগুলো উভয় দেশের জন্য মহাকাশ অনুসন্ধান এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঐতিহাসিক চুক্তিগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্ক উভয়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে। চুক্তিগুলো বাণিজ্য জোরদার করার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়কে সহজ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। আরব আমিরাতের শীর্ষ ১০ ব্যবসায়িক অংশীদারের একটি হলো তুরস্ক। অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্ক আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী এবং অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থানকে দৃঢ় করছে।










